
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৪ মে (হি.স.) : পরীক্ষার ফল প্রকাশে একের পর এক অনিয়ম, অযৌক্তিকভাবে ‘ব্যাক’ দেখানো এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরও ‘এবি (অ্যাবসেন্ট)’ উল্লেখ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর কলেজ চত্বর। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র ধর্মনগর কলেজ শাখা।
কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নেন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির ধর্মনগর নগর শাখার জেলা সংযোজক অনিকেত দেব-সহ সংগঠনের একাধিক নেতৃত্ব ও সদস্য। বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রছাত্রীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছেলেখেলা আর কতদিন?”
প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষার ফল প্রকাশে চরম গাফিলতি এবং নম্বর প্রদানে বিভ্রান্তির ঘটনা ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও ফলাফলে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ পূর্বে 'ব্যাক' পেপার ক্লিয়ার করার পরও পুনরায় সেই বিষয়েই ‘ব্যাক’ দেখানো হয়েছে। ফলে বহু ছাত্রছাত্রীর উচ্চশিক্ষা, চাকরির আবেদন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এবিভিপি নেতৃবৃন্দের দাবি, এই ধরনের প্রশাসনিক ভুল শুধু শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে না, ছাত্রছাত্রীদের উপর তীব্র মানসিক চাপও সৃষ্টি করছে। তাঁরা বলেন, একটি পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষার্থীদের বারবার বিভ্রান্তির শিকার হতে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
বিক্ষোভ কর্মসূচির এক পর্যায়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শ্যামল দাসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা।
এবিভিপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামবে সংগঠন। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ফলাফল সংক্রান্ত সমস্ত ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ