
উজ্জয়িনী, ২৬ মে(হি. স.) : মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরে গঙ্গা দশহারার পবিত্র তিথিতে শুরু হয়েছে এক অভিনব ও ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক আয়োজন। মঙ্গলবার সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে সূচনা হয়েছে ‘অখণ্ড নৃত্য আরাধনা’র, যা বিরামহীন ভাবে টানা ১৬ ঘণ্টা ধরে চলবে। বাবা মহাকালের দর্শনের পাশাপাশি এই বিরল নৃত্যাঞ্জলির সাক্ষী থাকছেন অসংখ্য ভক্ত।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, শয়ন আরতি পর্যন্ত নৃত্যের মাধ্যমে মহাকালেশ্বরকে আরাধনা জানাবেন শিল্পীরা। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, নৃত্যের ধারা এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না। এক শিল্পী বা দলের পরিবেশনা শেষ হতেই সঙ্গে সঙ্গে অন্য দল মঞ্চে উঠে পরিবেশনা শুরু করছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি নৃত্যদলকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এই নৃত্যাঞ্জলিতে বয়সের কোনও সীমারেখা নেই। চার বছরের খুদে শিল্পী থেকে শুরু করে চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা শিল্পীরাও সমান নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে অংশ নিচ্ছেন। শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্যের মাধ্যমে পরিবেশিত হচ্ছে গণেশ বন্দনা, শিব স্তোত্র, দেবী আরাধনা, শিবভজন এবং ঐতিহ্যবাহী লোকগীতি। গোটা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি প্রধান শিল্পী। পাশাপাশি সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের সমবেত তবলা বাদনও ভক্তদের বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট করছে।
৩৮ বছরের ঐতিহ্য
গঙ্গা দশহারায় মহাকাল মন্দিরে অখণ্ড নৃত্য নিবেদনের এই প্রথা দীর্ঘ ৩৮ বছরের পুরনো। ‘রসরাজ প্রভাত নৃত্য প্রতিষ্ঠান’ গত প্রায় চার দশক ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। ১৬ ঘণ্টার এই বিরামহীন অনুষ্ঠানের জন্য গত এক মাস ধরে কঠোর মহড়া দিয়েছেন শিল্পীরা। উজ্জয়িনীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নিয়মিত অনুশীলনের পরই তাঁরা এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন।
বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি
মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে উপস্থিত ছিলেন রসরাজ প্রভাত নৃত্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা রাজ কুমুদ ঠোলিয়া, প্রধান অতিথি অর্পণ ভারতদ্বাজ ও গোবিন্দ গন্ধে। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন সঞ্জয় মিশ্র, পণ্ডিত বিশাল শুক্ল এবং ভারতী সিং রাজপুত। তাঁদের উপস্থিতিতে শিল্পীদের উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পায়।
এ দিন মহাকালের নগরী যেন সম্পূর্ণ ভাবে শিবময় হয়ে ওঠে। ভক্তিগীতি, মন্ত্রোচ্চারণ ও নৃত্যের ছন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র মন্দির চত্বর।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য