
নয়াদিল্লি, ২৬ মে (হি.স.) : গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করল কংগ্রেস। দলের আদিবাসী বিভাগের সভাপতি বিক্রান্ত ভুরিয়া মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, বৃহৎ পরিসরে বনভূমি ধ্বংসের ফলে শুধু পরিবেশ নয়, আদিবাসী সমাজ ও তাদের অস্তিত্বও গভীর সঙ্কটের মুখে পড়বে।
এদিন কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে ভুরিয়া বলেন, “একদিকে সরকার বৃক্ষরোপণকারীদের সম্মান জানায়, অন্যদিকে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আদিবাসী সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করতে হলে বন ও জমি বাঁচানো জরুরি।”
তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের আওতায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেখানে বসবাসকারী শম্পেন জনজাতির অস্তিত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, অতি সীমিত সংখ্যায় টিকে থাকা এই আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রকল্পের জেরে গুরুতর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
ভুরিয়ার বক্তব্য, গ্রেট নিকোবরকে ইউনেস্কো ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সেখানে বৃহৎ নির্মাণকাজ ও জনবসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে যত মানুষ বসবাস করেন, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি জনসংখ্যা সেখানে স্থায়ীভাবে বসানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় সেখানে ব্যাপক নির্মাণকাজ উদ্বেগের বিষয়। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পরিবেশগত ভারসাম্য ও মৌসুমি বায়ু ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভুরিয়া বলেন, “আদিবাসীরা কেবল একটি সম্প্রদায় নয়, তারা দেশের ইতিহাস ও মূল পরিচয়ের অংশ।” তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে আদিবাসীদের জল, জঙ্গল ও জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং পেসা আইন ও বনাধিকার আইন যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য