
নয়াদিল্লি, ৪ মে (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুকূলে আসা ফলাফলে খুশির হাওয়া দিল্লি সচিবালয়ে। সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে এই অভাবনীয় সাফল্যের উদযাপন করলেন। তবে এই উদযাপনে ছিল এক টুকরো বাংলার ছোঁয়া—‘ঝালমুড়ি’ আর ‘রসগোল্লা’ দিয়ে জয় উদযাপন।
সচিবালয়ে আয়োজিত এই ঘরোয়া উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী একে অপরকে ঝালমুড়ি ও রসগোল্লা খাইয়ে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন। এই সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী আশীষ সুদ, পূর্তমন্ত্রী প্রবেশ সাহেব সিং, পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা, পর্যটন মন্ত্রী কপিল মিশ্র এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রবীন্দ্র ইন্দ্ররাজ সিং।
এই জয়কে দেশের মানুষের বিশ্বাসের জয় বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি বলেন, “এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনকল্যাণমুখী নীতির প্রতি জনগণের স্পষ্ট সমর্থন। এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, এই জয় কেবল একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রতীক। তাঁর মতে, মানুষ এখন মিথ্যা স্লোগান ও তুষ্টির রাজনীতি ত্যাগ করে স্বচ্ছতা এবং উন্নয়নকে বেছে নিচ্ছে।
বিজেপির এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দিল্লির অন্যান্য মন্ত্রীরাও
আশীষ সুদ (শিক্ষামন্ত্রী) সামাজিক মাধ্যমে জানান, বাংলার ঝালমুড়ি ও রসগোল্লার মিষ্টত্বে জয়ের স্বাদ আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বই এই জয়ের মূল ভিত্তি।
প্রবেশ সাহেব সিং (পূর্তমন্ত্রী) জানিয়েছেন, বাংলার মানুষ হিংসা ও অরাজকতার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে মোদীজির সবল নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই জয় 'ইন্ডি' জোটের আসল চেহারা সামনে এনে দিয়েছে।
মনজিন্দর সিং সিরসা (পরিবেশমন্ত্রী) বলেন, বাংলার মানুষ যথেষ্ট বুদ্ধিমান। তাঁরা ভেবেচিন্তে স্থির করেছেন যে রাজ্যের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য বিজেপিই একমাত্র বিকল্প।
সনাতন বিরোধী রাজনীতির পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেন কপিল মিশ্র (পর্যটন মন্ত্রী)। তাঁর মতে, হিন্দু ভাবাবেগকে অপমান করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
সামগ্রিকভাবে, জনধন যোজনা, উজ্জ্বল যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি যে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে, এই ফলাফল তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি