
কলকাতা, ৪ মে (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। গণনার শুরু থেকেই রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক ঐতিহাসিক জয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। ২৯৩টি আসনের ট্রেন্ড ও ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি ইতিমধ্যে ১৮টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং ১৮৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং ৭৭টি আসনে লিড বজায় রেখেছে। এছাড়াও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ও কংগ্রেস ২টি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং আইএসএফ ও সিপিআইএম ১টি করে আসনে এগিয়ে আছে।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিজেপি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর ও ভাতাড়, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দার্জিলিং, মেদিনীপুর, খড়দহ ও রানিবাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। মন্তেশ্বর আসনে বিজেপির সৈকত পাঁজা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ১৪,৭৯৮ ভোটে পরাজিত করেছেন। আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে অগ্নিমিত্রা পাল ৪০,৮৩৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এবং কালিম্পং থেকে ভারত কুমার ছেত্রী ২১,৪৬৪ ভোটে জয়ী ঘোষিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার মেটিয়াব্রুজ, মালদার সুজাপুর এবং মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা আসনে জয়ী হয়েছে। ভগবানগোলায় তৃণমূলের রেয়াত হোসেন সরকার ৫৬,৪০৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরে লড়াই চলছে টক্করে-টক্করে। শুরুতে পিছিয়ে থাকলেও ১৩তম রাউন্ডের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর থেকে মাত্র ৫,০০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে মমতা ক্যাবিনেটের হেভিওয়েট মন্ত্রী ও প্রার্থী যেমন মলয় ঘটক, শশী পাঁজা, উদয়ন গুহ, সুজিত বসু, বীরবাহা হাঁসদা ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীরা ক্রমাগত পিছিয়ে চলছেন। বিপরীতে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা বড় ব্যবধানে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিজেপির সাফল্যের বড় কারিগর হয়ে দাঁড়িয়েছে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গ। বাঁকুড়ার ১২টি এবং পুরুলিয়ার ৯টি আসনের সবকটিতেই বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে থেকে ‘ক্লিন সুইপ’-এর পথে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, মালদা, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারেও গেরুয়া শিবিরের দাপট অব্যাহত। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ৯টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা লিড বজায় রেখেছেন। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই নবান্নসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের ধৈর্য ধরে গণনা কেন্দ্রে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সাফল্যের জন্য হিন্দু ভোটের একীকরণ এবং মুসলিম ভোটব্যাংকের বিভাজনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাতেও বিজেপির অভাবনীয় ফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি