
কলকাতা, ৪ মে (হি. স.) : সোমবার বিকেলে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শাখাওয়াত মেমোরিয়াল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে যান তিনি। তবে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত বিস্ফোরক ও গুরুতর অভিযোগ করেন।
গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি প্রার্থী, অথচ আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাকে মেরেছে ওরা। এটা একটা দানবিক পার্টি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অন্তত ১০০টি আসনে জয় ‘চুরি’ করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে দায়ী করে তিনি জানান, তিনি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ দায়ের করবেন।
ভোটগণনার বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি রাজ্যের প্রায় ২০০টি আসনের কাছাকাছি লিড নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগোচ্ছে। ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সমানে সমানে লড়াই চলছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও তৃণমূল নেত্রী কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ।
বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থান এবং গণনা কেন্দ্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন। তাঁর কথায়, “ওরা কারচুপি করছে, কিন্তু আমরা ঘুরে দাঁড়াব।” এদিন কার্যত ঘরোয়া পোশাকেই তিনি গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতি যে কতটা উদ্বেগের তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অনেক জায়গায় ষড়যন্ত্র করে গণনার গতি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা এজেন্টদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গড়ার পথে, তখন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থীর এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি