
নয়াদিল্লি/কলকাতা, ৪ মে (হি. স.): ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার এই দিনটি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে ঐতিহাসিক হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসম–সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট গণনায় পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম— উভয় রাজ্যেই বড় জয়ের পথে গেরুয়া শিবির। এই জয় উদযাপন করতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের বিজেপি সদর দফতরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপি ১৯০-এর বেশি আসনে এগিয়ে যাওয়ার খবর দিল্লিতে পৌঁছাতেই সদর দফতরে উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই ঢোল-নগাড়া বাজিয়ে এবং বাজি ফাটিয়ে উল্লাস করছেন বিজেপি কর্মীরা। জয়ের এই আমেজ ভাগ করে নিতে সদর দফতরে ঝালমুড়ি, রসগোল্লা এবং মিষ্টি দই বিলি করা হচ্ছে। এমনকি, মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মবেশে এক কর্মীকে দফতরের চত্বরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, যা কর্মীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসমেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। ১২৬টি আসনের মধ্যে ৮০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগীরা। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ যোরহাট কেন্দ্রে পিছিয়ে থাকায় বিরোধী শিবিরে হতাশা স্পষ্ট।
২০১১ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে প্রথমবারের মতো পদ্ম শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিজেপির সদর দফতরে আসার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় এক পদাধিকারী জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ বার্তা দেবেন। সদর দফতরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ফুল দিয়ে মোদীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল বিকেলের পর ঘোষণা করা হলেও, দিল্লি ও বাংলার বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আজকের এই জয় বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি