
আগরতলা, ১ জুন (হি.স.) : বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও শুরু হয়েছে পশুদের ফুড অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (এফএমডি) প্রতিরোধক টিকাকরণ কর্মসূচি। রাজ্যের প্রধান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার দীঘালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রতি বছর ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালন করা হয়। 'সাদা বিপ্লব'-র জনক ডঃ ভার্গিস কুরিয়েনের অবদানকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। দুগ্ধ শিল্পের বিকাশ, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে দুগ্ধ খাতের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, রাজ্যে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পশুসম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে গাভীর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে এবং রাজ্য সরকার ব্যাপক ভর্তুকির মাধ্যমে এই পরিষেবা পশুপালকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এর ফলে উন্নত জাতের গবাদি পশু তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুধ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফুড অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ গবাদি পশুর একটি সংক্রামক রোগ, যা পশুর উৎপাদনশীলতা এবং স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। এই রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে সারা দেশে এদিন থেকে অষ্টম পর্যায়ের এফএমডি টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ত্রিপুরাতেও ব্যাপক আকারে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে যাতে রাজ্যের গবাদি পশুগুলিকে রোগমুক্ত রাখা যায়।
তিনি জানান, রাজ্যের দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পশুপালকদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে রাজ্যের দুধের চাহিদা পূরণে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং টিকাকরণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের আধিকারিক, পশু চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি এবং পশুপালকরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কর্মকর্তাদের মতে, গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ