
চণ্ডীগড়, ১ জুন (হি.স.): পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় রবিবার রাতে একটি কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস লিক করার ফলে বাবা ও ছেলে সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দুজন শ্রমিকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সোমবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ বিষয়টি জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা দমকল এবং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি টিম (এফএসএল)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্যাস লিক করার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লুধিয়ানার ওই রেঞ্চ ও চাবি তৈরির কারখানায় প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক কাজ চলছিল। কিন্তু গত রাতে আচমকা পাইপলাইন থেকে গ্যাস লিক করতে শুরু করে। গ্যাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা বাইরে বেরিয়ে আসারও সুযোগ পাননি। গ্যাসে দম আটকে এবং চোখে তীব্র জ্বালার কারণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কারখানার ভেতরেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে কারখানায় কর্মরত মান সিং ও তাঁর ছেলে অমিত ছাড়াও শ্রীরাম নামে এক কারিগরের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মান সিং এবং অমিত মেশিনের তলা থেকে বেরোনো মাটি ট্রলিতে ভরতে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই তাঁরা এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
এসডিএম জসলিন ভুল্লার জানিয়েছেন, তিনটি মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। এফএসএল টিমের রিপোর্টের পরেই ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে। এসডিএম আরও জানান, আরকে রোডে অবস্থিত এই কারখানাটির নাম 'দীপ টুলস'। আপাতত পুরো সংস্থাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের গ্যাস লিক করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কারখানার ভেতরে একটি ট্যাঙ্ক রয়েছে, যেখানে কোনো কেমিক্যাল বা অন্য কিছু মজুত রাখা ছিল। পাঞ্জাব দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং পৌর নিগমের টিম যৌথভাবে এর তদন্ত করবে। এত বড় দুর্ঘটনার খবর প্রশাসনকে দিতে কেন দেরি করা হলো, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিএসপি হরপাল সিং জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আশেপাশের মানুষের বয়ান নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি