আগর শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কদমতলায় আগর উড স্কিল ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধন
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী আগর শিল্প আজ দেশ ও রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। এই শিল্পকে আর
আগর শিল্প নিয়ে কর্মশালা


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী আগর শিল্প আজ দেশ ও রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। এই শিল্পকে আরও সম্প্রসারিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে উত্তর ত্রিপুরার কদমতলায় চালু হলো ‘আগর উড স্কিল ট্রেনিং সেন্টার’।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির হলঘরে নর্থ ইস্টার্ন রিজিওনাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (নেরামেক)-এর উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ অর্গানিকস লিমিটেড (নেকোফ)-এর সহযোগিতায় প্রায় এক বছরের মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেরমেকের ইনচার্জ অমন রাহত বাজফুর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেকোফের ইনচার্জ নিতিন কুমার, উত্তর ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, কদমতলা ব্লকের বিডিও উৎপল দাস, কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান মিহির রঞ্জন নাথ, ধর্মনগর ফরেস্ট রেঞ্জের রেঞ্জার সুপ্রিয় দেবনাথ, অল ত্রিপুরা আগর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন নাথসহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক ও আগর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ত্রিপুরার অর্থনীতিতে আগর শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে আগর কাঠ, আগর তেল এবং আগরভিত্তিক সুগন্ধি পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরি করা সময়ের দাবি। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, কদমতলা ব্লকের অন্তর্গত ১৮টি এলাকার মোট ২ হাজার ৬০ জন নারী ও পুরুষকে এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। চলতি মাসের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রশিক্ষণের আওতায় ৫০০ জনকে আগর চিপ কাটিং, ৫০ জনকে আগর খোদাই শিল্প, ৫০ জনকে আগর থেকে তেল উৎপাদন, ২০০ জনকে আগর উড থেকে পারফিউম তৈরির কৌশল এবং ১০ জনকে মান নিয়ন্ত্রণ বা কোয়ালিটি চেকিং সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া সর্বাধিক ১ হাজার ২৫০ জনকে আগরভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীদের হাতে আনুষ্ঠানিক শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে আগর ক্লাস্টার প্রসেসিং সেন্টার এবং আগর শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে এই শংসাপত্র বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আগর চাষি, ব্যবসায়ী ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আশাবাদ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে এই প্রকল্প একদিকে যেমন গ্রামীণ যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে, অন্যদিকে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী আগর শিল্পকে আরও শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande