
শ্রীভূমি (অসম), ১০ জুন (হি.স.) : শ্রীভূমি জেলা কারাগারে ২৯টি মোবাইল ফোনের হ্যান্ডসেট উদ্ধারের ঘটনায় বড় অগ্রগতি লাভ করেছে পুলিশ। কয়েদিদের কাছে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য নিষিদ্ধদ্রব্য সরবরাহে সহায়তা করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কারাগারের দুই সহকারী জেইলার এবং দুই ওয়ার্ডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তের পর শ্রীভূমি জেলা পুলিশ কারাগারের দুই সহকারী জেইলার এবং দুই ওয়ার্ডার যথাক্রমে রুদ্র দেউরি, শুভাশিস ঘোষ, মসিদ আলি লস্কর এবং বিশ্বজিৎ বরুয়াকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি শ্রীভূমি জেলা সদরে অবস্থিত জেলা কারাগারে পুলিশের এক আকস্মিক ও বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণের নিষিদ্ধ সামগ্রী এবং সিমকার্ড সহ ২৯টি মোবাইল ফোনের হ্যান্ডসেট উদ্ধার হয়। জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মোবাইল ফোন, চার্জার, সিম কার্ড সহ একাধিক আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় গোটা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, প্রশ্ন উঠেছিল জেলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারের ভেতরে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ আসছিল। বন্দিদের একাংশ বাইরের জগতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কারাগারের অন্দর থেকে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পেয়েছিল পুলিশ। প্রাপ্ত ওই তথ্যের ভিত্তিতেই বিশেষ অভিযান চালান সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলে।
অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত বিপুল সংখ্যার মোবাইল ফোন দেখে হতবাক হয়ে যান এসএসপি সহ তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা। প্রশ্ন ওঠেছিল, কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বিদ্যমান কারাগারে এতগুলো মোবাইল ফোন প্রবেশ করল কীভাবে? তদন্তে নেমে পুলিশ কারাগারের ভেতরের একাংশ কর্মচারীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। ধাপে ধাপে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু হয়।
দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশের হাতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ আসে, যার ভিত্তিতে কারাগারের দুই সহকারী জেইলার ও দুই ওয়ার্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ, তারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কয়েদিদের কাছে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছিলেন। এর পরই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে জেলার অপরাধ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ত্রিনয়ন ভুইয়াঁ জানান, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলির কল রেকর্ড, যোগাযোগের তথ্য এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন, বন্দিদের হাতে এত বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন পৌঁছে যাওয়া শুধুমাত্র নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয় নয়, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে কি না, সে দিকও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ত্রিনয়ন ভুইয়াঁ জানান, গ্রেফতার চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। তিনি জানান, এই মামলায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারের ভেতরে নিষিদ্ধ সামগ্রীর প্রবেশ রোধে নজরদারি ও তালাশি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস