আসানসোল পুরনিগমে এক বোরো চেয়ারম্যান ও এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা
পশ্চিম বর্ধমান, ১০ জুন (হি.স.): আসানসোল পুরনিগমে পরপর পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার পুরনিগমের ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা ৬ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান ডঃ দেবাশীষ সরকার বোরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা
দেবাশীষ সরকার বোরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা


পশ্চিম বর্ধমান, ১০ জুন (হি.স.): আসানসোল পুরনিগমে পরপর পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার পুরনিগমের ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা ৬ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান ডঃ দেবাশীষ সরকার বোরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার সকালে ডঃ দেবাশীষ সরকার পুরনিগম কার্যালয়ে পৌঁছান এবং মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগপত্রটি রিসিভিং কাউন্টারে জমা দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে যে জনমত দিয়েছেন, তাকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে যেভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল, কিছু পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না। বোরো চেয়ারম্যানের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বপূর্ণ হলেও, কিছু অনিবার্য পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ থেকে তিনি ইস্তফা দেননি এবং এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কাউন্সিলর হিসেবে আগের মতোই তিনি জনগণের পরিষেবা এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবেন।

এই প্রসঙ্গে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর করা কিছু অভিযোগের উল্লেখ করে ডঃ সরকার বলেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সত্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়েও তদন্ত করানো উচিত যাতে আসল সত্য মানুষের সামনে আসে। তবে অভিযোগের ধরন বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে, পুরনিগমের ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় নুনিয়াও পুর কমিশনারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর ইস্তফাপত্রে পদ ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি পারিবারিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। সঞ্জয় নুনিয়া জানিয়েছেন, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ এবং তাঁর লাগাতার চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত দেখভালের প্রয়োজন রয়েছে। এই কারণে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

সঞ্জয় নুনিয়া পুর প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে তাঁর পদত্যাগপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক পরিস্থিতির কারণেই নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, তাঁর পদত্যাগপত্রের প্রতিলিপি মেয়র, জেলা দলীয় নেতৃত্ব, সংশ্লিষ্ট ব্লক সভাপতি এবং বোরো প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande