
বারাবনি, ১০ জুন (হি. স.) : পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আমনলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার একটি বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল। বিদ্যালয়ে যখন তৃতীয় শ্রেণীর পঠনপাঠন চলছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ ক্লাসরুমের ছাদের প্লাস্টার ভেঙে নিচে খসে পড়ে। এই ঘটনায় তিন শিশু আহত হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় বিদ্যালয়ে পৌঁছান এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তিনি স্কুল পরিচালন সমিতির সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করেন এবং বিদ্যালয় ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক অরিজিৎ রায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতির ফলেই আজ নিষ্পাপ শিশুদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ তোলেন, মেরামতির নামে কেবল বিদ্যালয় ভবনের বাইরে রঙ-চং করা হয়েছিল, কিন্তু ভবনের আসল কাঠামোগত পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া হয়নি। এই চরম উদাসীনতার কারণেই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং মেরামতির কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অরিজিৎ রায় আরও বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স এবং কোনো দোষী ব্যক্তিকে রেয়াত করা হবে না।
বিদ্যালয়ে আগামী দিনে ক্লাস চালানো প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিধায়ক জানান, এই বিষয়ে তাঁর বিডিও-র সঙ্গে কথা হয়েছে। আপাতত যে ক্লাসরুমে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল বিদ্যালয়ে পৌঁছে ভবনের কারিগরি পরীক্ষা করবে। যদি ঘরটি নিরাপদ মনে হয় তবেই সেখানে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে, অন্যথায় শিশুদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য তাদের অন্য কোনো সরকারি ভবন বা বিকল্প স্থানে স্থানান্তরিত করা হবে। এই ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হলেও, প্রশাসন বিদ্যালয় ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি