
দলীয় কাৰ্যকৰ্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় কামাখ্যা মন্দিরে পুজো অসম বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়ার
গুয়াহাটি, ১০ জুন (হি.স.) : স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৪,৩৯৯ দিনের এক ঐতিহাসিক যাত্রা সম্পূর্ণ করেছেন। ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে আজ দেশবাসী এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ১২ বছর সফলভাবে দায়িত্ব সম্পন্ন করার জন্য অসম বিজেপির পক্ষ থেকে দলের প্রদেশ সভাপতি দিলীপ শইকিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ বুধবার গুয়াহাটিতে অবস্থিত বিজেপির প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র মিতা নাথ বরা বলেন, এই অভূতপূর্ব সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আস্থা, বিশ্বাস এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতির প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা ভারতকে বিশ্বমঞ্চে একটি আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী ও উদীয়মান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দরিদ্র কল্যাণকে শাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার অধীনে প্রতি মাসে ৮১ কোটিরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ৪ কোটির বেশি পাকা বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা লক্ষ লক্ষ পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করেছে। ১০.৫ কোটির বেশি উজ্জ্বলা গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে মহিলা ও পরিবারগুলিকে ধোঁয়ামুক্ত জীবন দেওয়া হয়েছে। ১২ কোটির বেশি শৌচালয় নির্মাণের মাধ্যমে ভারতকে উন্মুক্ত স্থানে শৌচমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মোদী সরকারের গত ১২ বছরে মহিলাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ৩২ কোটির বেশি জনধন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মহিলাদের নামে খোলা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের স্থায়ী নিয়োগ ও নেতৃত্বের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩ কোটির বেশি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। ৯১ লক্ষের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ১০ কোটির বেশি গ্রামীণ মহিলা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
উন্নত পরিকাঠামোর মাধ্যমে নতুন ভারত গড়ে উঠছে। মোদী সরকারের সময় পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাষ্ট্র নির্মাণের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। দেশের আটটি শহরে ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি মেট্রো নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। অটল সেতু, সুদর্শন সেতু, চেনাব রেল সেতু, বগীবিল সেতু ও পামবান সমুদ্র সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলি আধুনিক ভারতের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে ৭৪টি বিমানবন্দর থাকা দেশটিতে বর্তমানে বিমানবন্দরের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ হয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে।
যুব সমাজকে আত্মনির্ভর ও দক্ষ করে তুলতে প্রায় ২ কোটি যুবক-যুবতীকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মুদ্রা যোজনার অধীনে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। দেশে ২.২ লক্ষের বেশি স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। ১০ হাজারের বেশি অটল টিঙ্কারিং ল্যাবের মাধ্যমে উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমে ৬০ কোটির বেশি মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় এসেছেন। ৭০ বছরের বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে ১৯ হাজারের বেশি জনঔষধি কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে ওষুধ পাচ্ছেন।
শক্তিশালী ভারত, সুরক্ষিত ভারতের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কংগ্রেস আমলের আমদানি-নির্ভর দেশ এখন প্রায় ৩৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকার রেকর্ড প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি করেছে। সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের ফলে দেশ নকশালমুক্ত ভারতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তি দিয়ে রাজপথকে ‘কর্তব্য পথ’-এ রূপান্তর, নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত ভারতীয় নৌসেনার নতুন পতাকা আত্মগৌরব ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কৃষকদের কল্যাণে ‘পিএম-কিষাণ’ যোজনার অধীনে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ৪.৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি সরাসরি জমা করা হয়েছে। ৪ কোটির বেশি কৃষক ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি শস্য বিমা সুরক্ষা পেয়েছেন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের অধীনে ২৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি ফসল কেনা হয়েছে। ৮ কোটির বেশি কৃষককে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক বোঝা কমাতে মোদী সরকার কর ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার করেছে। ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয় করমুক্ত করার ব্যবস্থায় কোটি কোটি পরিবার উপকৃত হয়েছে। উড়ান প্রকল্পের অধীনে ১.৬ কোটিরও বেশি যাত্রী সাশ্রয়ী বিমান পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় এমবিবিএস আসনের সংখ্যা ১৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১.৩ লক্ষ হয়েছে।
ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অযোধ্যায় ভগবান শ্রীরামের জন্মভূমিতে বিশাল রাম মন্দির নির্মাণ, কাশী বিশ্বনাথ ধামের পুনর্নির্মাণ, মহাকাল মহালোক ও কেদারনাথ ধামের উন্নয়ন ভারতীয় সভ্যতার গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলা ভারতের জন্য ৪,৩৯৯ দিনের এই যাত্রা শুধুমাত্র সময়ের হিসাব নয়, এটি সুশাসন, উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় পুনর্জাগরণের এক গৌরবময় কাহিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি, একটি উদীয়মান কূটনৈতিক শক্তি এবং আত্মনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রচেষ্টা’-র মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত এই যাত্রা দেশকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
গত ১২ বছরে অসমে শান্তি ও উন্নয়ন অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উগ্রপন্থী কার্যকলাপ ৭৬ শতাংশ কমেছে, মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ শতাংশ এবং নাগরিক মৃত্যুর সংখ্যা ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বড়ো চুক্তি, কার্বি চুক্তি এবং আদিবাসী সহ অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বহু উগ্রপন্থী সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার যুবক-যুবতী অস্ত্র সমর্পণ করেছেন।
অসম এখন দ্রুত উন্নয়নশীল রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম। জাগিরোডে সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প, নামরূপ ইউরিয়া প্রকল্প, ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, কুরুয়া-নারেঙ্গি, কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর এবং গহপুর-নুমলিগড় সংযোগকারী ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ রাজ্যের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অসমে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংখ্যা ছয় থেকে বেড়ে ২৪টি হয়েছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও অসম নতুন পরিচিতি পেয়েছে। অসমীয়া ভাষা ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পাওয়ার পাশাপাশি চড়াইদেও মৈদাম ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিহু, ঝুমুর ও বাগরুম্বা নৃত্য বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কার্যকালের এই গৌরবময় ১২ বছর উপলক্ষ্যে বিজেপি অসম প্রদেশ সমগ্র রাজ্যজুড়ে বৃক্ষরোপণ, স্বচ্ছতা অভিযান, প্রগতি পথ যাত্রা, যোগ শিবির ও জনকল্যাণ শিবিরের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রায় ৩২ হাজার বুথ কমিটি প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দির সহ রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সেবার এই রেকর্ড এবং ভবিষ্যতের আরও কর্মক্ষমতার জন্য আশীর্বাদ কামনা করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পূজা-অর্চনায় অংশগ্রহণ করেছেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়া মা কামাখ্যার চরণে পূজা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। মা কামাখ্যা যেন তাঁকে আরও শক্তি প্রদান করেন সেই প্রার্থনা জানান দিলীপ। তিনি কামাখ্যা মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহা-আরতি অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস