
কাঙপোকপি (মণিপুর), ১০ জুন (হি.স.) : মণিপুরের কাঙপোকপি জেলার লেইলন ভাইফেই গ্রাম থেকে ১৩ মে অপহৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে রাজ্য পুলিশের সমন্বিতে নিরাপত্তা বাহিনী।
রাজ্য পুলিশের আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, মণিপুর পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং আসাম রাইফেলস-এর প্রায় ৪৫০ জন সদস্যের প্রায় ২৪ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন তালাশি অভিযানে আজ বুধবার ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে স্নিফার ডগ ইউনিট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, মৃতদেহগুলি অপহৃত ছয় নাগা ব্যক্তির। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন, বলেছে পুলিশের আধিকারিক সূত্র।
আধিকারিক সূত্র জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তদন্তও চলছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার ১৪ জন কুকি জিম্মিকে (বন্দি) মুক্তি দিয়েছিল নাগা সংগঠন। ওই মুক্তি সম্ভব হয়েছিল ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি)-এর হস্তক্ষেপে।
এদিকে ইউএনসি-সভাপতি লোরহো বলেছেন, মণিপুর সরকার তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিল, ছয়জন নিখোঁজ নাগা বন্দির পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে তাঁদের হত্যা অতি মর্মান্তিক, বলেন তিনি।
অপহরণ কাণ্ডের সূত্রপাত ১৩ মে কোটলেন এলাকায় একটি প্রাণঘাতী হামলার পর। ওই ঘটনার পর কাঙপোকপি জেলার কনসাখুল গ্রামের ১৮ জন নাগাকে লেইলন ভাইফেই এলাকায় কুকি গোষ্ঠীগুলি অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পাল্টা হিসেবে নাগা গোষ্ঠীগুলি ২৮ জন কুকি ব্যক্তিকে বন্দি করে গোপন স্থানে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে দুই সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ছয় নাগা বন্দি এবং ১৪ জন কুকি বন্দি আটক থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছিল।
বাকি ১৪ জন কুকি বন্দির মুক্তির জন্য ইউএনসি-র প্রচেষ্টা চলতে থাকে। অবশেষে গতকাল (৯ জুন) তাদের মুক্তি দিয়ে সেনাপতি জেলা প্রশাসন ও সেনাপতি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনসি-সভাপতি লোরহো বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওর মাধ্যমে ছয়জন নিখোঁজ (জিম্মি) নাগা নাগরিকের অবস্থান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে বলে আশ্বাস দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন খ্রিষ্টান সংগঠনের আবেদন এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধও ১৪ জন কুকি আটক ব্যক্তিকে মুক্তির সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা এই অপহরণ মামলায় একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক মোড় এনেছে। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এখনও মৃতদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করেনি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস