রক্ত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, মৌলিক পরিষেবার দাবিতে সরব ছত্তিশগড়ের ৪৮ গ্রামের বাসিন্দারা
রায়পুর, ১০ জুন (হি.স.) : বিদ্যুৎ, রাস্তা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হলেন ছত্তিশগড়ের গরিয়াবন্দ জেলার ৪৮টি গ্রামের শতাধিক জনজাতি বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ না ম
রক্ত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, মৌলিক পরিষেবার দাবিতে সরব ছত্তিশগড়ের ৪৮ গ্রামের বাসিন্দারা


রায়পুর, ১০ জুন (হি.স.) : বিদ্যুৎ, রাস্তা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হলেন ছত্তিশগড়ের গরিয়াবন্দ জেলার ৪৮টি গ্রামের শতাধিক জনজাতি বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ না মেলায় বুধবার নিজেদের রক্ত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে ৫০০-রও বেশি চিঠি লিখে পাঠালেন তাঁরা।

গরিয়াবন্দ জেলার মৈনপুর ব্লকের রাজাপাড়াও অঞ্চলের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ৪৮টি গ্রামের বাসিন্দারা ‘জয় আম্বেদকরবাদী যুব সংগঠন’ এবং ‘কিষাণ সংগ্রাম সমিতি’-র ব্যানারে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে সমস্ত চিঠি স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের দাবিতে বারবার আবেদন জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। উদন্তী-সীতানদী টাইগার রিজার্ভের বাফার জোনে অবস্থিত হওয়ায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে বন ও বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের অজুহাতে কাজ আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে জুন মাসের মধ্যেই এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনও কাজ শুরু হয়নি।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সাধারণ কালি দিয়ে হাজার হাজার আবেদন, স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র জমা দিয়েও কোনও ফল মেলেনি। তাই শেষ পর্যন্ত নিজেদের দুর্দশার কথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে রক্ত দিয়ে চিঠি লেখার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।

জেলা পরিষদের সদস্য সঞ্জয় নেতাম এই পরিস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলনের পর মাত্র কয়েকটি গ্রামে আংশিক বিদ্যুৎ পৌঁছালেও অধিকাংশ পাড়া ও গ্রাম এখনও অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, আশ্বাস নয়, এবার বাস্তব উন্নয়ন চাই।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande