উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সিইএম হিসেবে দেবোলাল গার্লোসার ১০ বছর পূর্তি উদযাপন
হাফলং (অসম), ১০ জুন (হি.স.) : উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) হিসেবে দেবোলাল গার্লোসার সফল দশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ বুধবার নবনির্মিত জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অন
উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দেবোলাল গার্লোসার ১০ বছর পূর্তি


হাফলং (অসম), ১০ জুন (হি.স.) : উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) হিসেবে দেবোলাল গার্লোসার সফল দশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ বুধবার নবনির্মিত জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে দেবোলাল গার্লোসা ডিমা হাসাও জেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তাঁর নির্বাচন কেন্দ্র দিহাঙ্গির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, যাদের অকুণ্ঠ আস্থা ও সমর্থনের ফলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছেন।

জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ডিমাসা সম্প্রদায় সহ সকল ক্ষুদ্র ও বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দেবোলাল বলেন, উন্নয়নের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য। এ সময় তিনি প্রয়াত কার্যনির্বাহী সদস্য সুব্রত থাওসেন, স্যামুয়েল চাংসন সহ তাঁর প্রয়াত সহকর্মীদের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দেবোলাল গার্লোসা বলেন, একসময় ডিমা হাসাও নানা নেতিবাচক ঘটনার কারণে সংবাদ শিরোনামে ওঠে আসত। সেই পরিস্থিতি থেকে জেলাকে উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াকে তিনি নিজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভবিষ্যতে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে দেবোলাল গার্লোসা বলেন, দেশের সেবায় দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যেমন গৌরবের বিষয়, তেমনি নিজের দশ বছরের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি লাভ ও তাঁর কাছে এক বড় আশীর্বাদ। তিনি জানান, যোগ্যতার ভিত্তিতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। যুবসমাজকে নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক নতুন প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধ্যক্ষ মোহিত হোজাই বলেন, ২০১৬ সালে ডিমা হাসাও জেলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু দেবোলাল গার্লোসার নেতৃত্বে জেলা সেই অস্থিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে অগ্রসর হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনগুলো আরও সমৃদ্ধ ও গৌরবময় হয়ে উঠবে।

বিধায়ক রূপালি লাংথাসা দেবোলাল গার্লোসাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি বলেন, দেবোলাল গার্লোসা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রেরণা ও পথপ্রদর্শক। শিক্ষা ক্ষেত্রে জেলার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তুলে ধরে রূপালি লাংথাসা বলেন, ডিমা হাসাওয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরীক্ষার ফলাফলের ধারাবাহিক উন্নতি মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্যের শিক্ষাবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন। তিনি যুবসমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, গ্রামপ্রধানদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সরেজমিন পরিদর্শনের মতো উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন।

বিধায়ক রূপালি বলেন, জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে দেবোলাল গার্লোসার গভীর জ্ঞান এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ডিমা হাসাওয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ, প্রধানসচিব, বিভিন্ন সরকারি দফতরের বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, গ্রামপ্রধান এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেবোলাল গার্লোসার এক দশকের নেতৃত্ব, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ডিমা হাসাও জেলার সামগ্রিক অগ্রগতিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande