
নয়াদিল্লি, ১০ জুন (হি.স.) : গুজরাটের সুরাটে একটি গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে চার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (সুয়ো মোটো) মামলা গ্রহণ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। ঘটনাটিকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে গুজরাটের মুখ্যসচিব এবং সুরাটের পুলিশ কমিশনারের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এনএইচআরসি জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত ৭ জুন ওই শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি না মেনেই সেপটিক ট্যাঙ্কে পরিষ্কারের কাজে নেমেছিলেন। ট্যাঙ্কের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে তাঁরা অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
পরে উদ্ধারকারীরা তাঁদের ট্যাঙ্ক থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চারজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক হলে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত বিধি মেনে চলা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নও তুলে দিয়েছে এই দুর্ঘটনা।
এনএইচআরসি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মৃত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য কী ধরনের ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার গয়না পরিষ্কারের সময় উৎপন্ন বর্জ্য ওই সেপটিক ট্যাঙ্কেই ফেলা হত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এনএইচআরসি-র এই পদক্ষেপের ফলে বিপজ্জনক পরিবেশে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, বিশেষত সেপটিক ট্যাঙ্ক বা বদ্ধ জায়গায় পরিষ্কারের কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য