
তুতিকোরিন, ১৩ জুন (হি.স.) : খরিফ মরসুমের চাষ শুরুর মুখে তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি ও তুতিকোরিন জেলার কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর। রাজ্য সরকার পাপনাসম, সার্ভালার এবং মনিমুথার জলাধার থেকে সেচের জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৫ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে জল পৌঁছবে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে।
শনিবার সরকারি সূত্রের দাবি, তামিরাপরণী অববাহিকার একাধিক সেচ খালের মাধ্যমে প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০ একরেরও বেশি কৃষিজমিতে জল সরবরাহ করা হবে। তিরুনেলভেলি জেলার একাধিক কৃষিপ্রধান এলাকা এবং তুতিকোরিনের তিরুভাইকুন্ডম ও এরাল অঞ্চলের কৃষকেরা এই সিদ্ধান্তে সরাসরি উপকৃত হবেন।
কৃষকদের একাংশের মতে, সময়মতো জল পাওয়ায় ধান-সহ খরিফ ফসলের চাষে সুবিধা হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিনির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে রাজ্যের সব কৃষকের চিত্র এক নয়। যেখানে দক্ষিণ তামিলনাড়ুর কৃষকদের মুখে হাসি ফিরেছে, সেখানে কাবেরী ডেল্টা অঞ্চলের কৃষকদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। প্রতি বছর ১২ জুন মেট্টুর বাঁধ থেকে সেচের জল ছাড়া হলেও এ বছর পর্যাপ্ত জল মজুত না থাকায় সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।
মেট্টুর বাঁধের জলেই প্রায় ১৬ লক্ষ একরের বেশি কৃষিজমির চাষ নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে বাঁধের জলস্তর প্রয়োজনীয় সীমার অনেক নীচে। জলাধারে জলের প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় প্রশাসন এখনও জল ছাড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারেনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টির গতিপ্রকৃতিই পরিস্থিতি অনেকটা নির্ধারণ করবে। ততদিন পর্যন্ত ডেল্টা অঞ্চলের কৃষকদের অপেক্ষা জারি থাকবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য