
কলকাতা, ১০ জুন (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার শিল্প উন্নয়নকে তাদের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকারের তালিকায় শামিল করেছে। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য সরকার বড়সড় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো টাটা গোষ্ঠীসহ সেইসব বড় শিল্প সংস্থাকে ফিরিয়ে আনা, যারা অতীতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল।
এক সাক্ষাৎকারে তাপস রায় বলেন, শিল্পই পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। রাজ্যের যুবসমাজকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প উন্নয়নকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা স্বীকার করেই কাজ করা হবে।
পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শিল্প নীতির সমালোচনা করে তাপস রায় অভিযোগ তোলেন, বিগত বহু বছর ধরে রাজ্যে শিল্পক্ষেত্র চরম উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, কেবল লোকদেখানো উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছিল, কিন্তু শিল্পের জন্য কোনও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে বৃদ্ধি পাওয়া একনায়কতন্ত্র, তোষণ এবং তোলাবাজির মতো ঘটনার কারণে অনেক শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের শাসনকালে ৬,৬৮৮টি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প রাজ্য থেকে বাইরে চলে গেছে। তিনি জানান, বিজেপি সরকার শিল্প মহলকে এই ভরসা দিতে চায় যে, এখন থেকে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরণের তোলাবাজি বা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে না।
তাপস রায় বলেন, যে সমস্ত শিল্পপতিরা রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে হবে। টাটা গোষ্ঠীকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর পাশাপাশি আদানি এবং আম্বানির মতো বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীগুলিকেও রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য আকৃষ্ট করা আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য লাগাতার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এই বৈঠকগুলিতে শিল্পপতিদের কাছে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নতুন সরকারের আমলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হবে এবং শিল্পের জন্য একটি সুরক্ষিত ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিও রাজ্য সরকারের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ রেখেছে। এর মধ্যে শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাঙ্ক বা জমি ব্যাঙ্ক তৈরি, উপলব্ধ জমির জিপিএস ট্যাগিং, শিল্পাঞ্চলগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক নীতি নির্ধারণ, প্রকল্পের ছাড়পত্রের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো বা এক জানলা ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে শিল্প মহলের নজর আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেটের দিকে টিকে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেটে শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি