
কলকাতা, ১১ জুন (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে জারি থাকা রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। কোনও রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছাড়া এবং দল থেকে বহিষ্কৃত কোনও বিধায়ককে স্পিকার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার শুনানি হয়। তবে এদিন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। আদালত জানিয়েছে, প্রথমে বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশ আদালতের নথিভুক্ত করা হোক, তারপর মামলার গুণাগুণ নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ জুন। ফলে আদালতের তরফে কোনও স্থগিতাদেশ জারি না হওয়ায় আপাতত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বহাল থাকছেন।
শুনানির সময় আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, কোনও রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছাড়া একজন বিদ্রোহী নেতাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না। আদালত আরও মন্তব্য করে, যাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তিনি বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ৬ মে দলের বিধায়ক দলের বৈঠকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত বিধায়কদের স্বাক্ষরযুক্ত প্রস্তাব স্পিকারের কাছেও জমা দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে অবিলম্বে অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন জানান। তিনি যুক্তি দেন, সংবিধানের দশম তফসিল এবং সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাওয়া উচিত, শুধুমাত্র বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়। তাঁর বক্তব্য, স্পিকারের রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দেওয়া উচিত ছিল।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, রাজনৈতিক দল এবং বিধায়ক দলকে এক মনে করা হলে দলবদল বিরোধী আইনের মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি জানান, যাঁদের বিরোধী দলনেতা ও মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই বহিষ্কারকে এখনও পর্যন্ত কোনও বিচারিক বা সাংবিধানিক মঞ্চে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি।
অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, মামলার আবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রার্থনার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি বিধানসভার নথি এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশ আদালতের সামনে পেশ করার জন্য সময় প্রয়োজন।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানতে চান, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি হয়েছে কি না। আদালত জানিয়েছে, যদি এমন কোনও নির্দেশ থেকে থাকে, তবে তার অনুলিপি বিচারিক পর্যালোচনার জন্য আদালতে পেশ করতে হবে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগামী ১৮ জুন শুরু হতে চলা বিধানসভার অধিবেশনের প্রসঙ্গও আদালতের সামনে তোলা হয়। তাদের দাবি, বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে এই বিতর্কের ফলে বিধানসভায় আসন বিন্যাস এবং অন্যান্য সংসদীয় কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। সেই কারণেই দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা জানায়।
তবে আপাতত স্পিকারের নির্দেশ আদালতে জমা পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালত। আগামী ১৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির আইনি দিক খতিয়ে দেখা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য