
ঝাড়গ্রাম, ১১ জুন (হি.স.) : জঙ্গলমহলে ক্রমশ বাড়তে থাকা হাতি-মানুষ সংঘাত মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়ানো, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই সংঘাত কমানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো।
বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জ অফিসে হাতির আক্রমণে মৃত শবর সম্প্রদায়ের মহিলা মৌসুমি মল্লিকের পরিবারের হাতে সরকারি ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, ঝাড়গ্রাম ডিভিশনের ডিএফও উমর ইমাম-সহ বনদপ্তরের আধিকারিকরা। মৃতার স্বামী মানিক মল্লিকের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক এবং খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
বন দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের পুকুরিয়া বিটের শিমূলডাঙা জঙ্গল সংলগ্ন একটি কাজুবাগানে কাজ করতে গিয়ে হাতির আক্রমণের শিকার হন মৌসুমি মল্লিক। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনি হাতিটির সামনে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে মৃত অবস্থায় পান।
ঘটনার পর পরিবারটির উপর নেমে আসে আরও এক দুঃখের ছায়া। স্ত্রীর মৃত্যুর পরদিনই মারা যান মানিক মল্লিকের বাবা মোহন মল্লিক। ফলে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে।
মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো বলেন, শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রযুক্তির সাহায্যে সংঘাত কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বন দফতরের সূত্রে খবর, ঝাড়গ্রাম, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম ও বেলপাহাড়ি-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হাতির চলাচল বেড়েছে। খাদ্যের খোঁজে প্রায়ই হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় সংঘাতের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে ঝাড়গ্রাম ডিভিশনে হাতির হানায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কৃষিজমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাতির গতিবিধি সম্পর্কে দ্রুত ও কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা এবং জঙ্গলের ভিতরে খাদ্য ও জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই সংঘাত অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো