
শিলং, ১১ জুন (হি.স.) : রাজ্যসভায় মেঘালয়ের একমাত্র আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন এনডিএ তথা ‘মেঘালয় ডেমোক্ৰ্যাটিক অ্যালায়েন্স’ (এমডিএ)-ভুক্ত ‘ন্যাশনাল পিপলস্ পাৰ্টি’ (এনপিপি)-নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক জেমস পাংসাং কঙ্খল সাংমা। ক্ষমতাসীন এমডিএ-র ঐকমত্যের প্রার্থী হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মেঘালয় বিধানসভার সচিব ও রিটার্নিং অফিসার মালথাস এস সাংমা তাঁর হাতে নির্বাচনী শংসাপত্র তুলে দেন। এর মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষে সাংমার নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়ে গেছে।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কঙ্খল সাংমা জেমস সাংমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী কনরাড লিখেছেন, ‘মেঘালয়ের একমাত্র রাজ্যসভা আসনে এমডিএ-প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য জেমস সাংমাকে অভিনন্দন। সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত তাঁর মেঘালয়ের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার ক্ষমতার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন। তাঁকে শুভেচ্ছা।’
এদিকে, শংসাপত্র গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্ৰী কনরাড কঙ্খল সাংমার দাদা এবং লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার প্ৰয়াত পিএ সাংমার ছেলে জেমস পাংসাং কঙ্খল সাংমা বলেন, রাজ্যকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে একদিকে যেমন সম্মানের বিষয়, তেমনই এটি একটি বড় দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘মেঘালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি ‘গভীরভাবে বিনীত ও সম্মানিত বোধ করছি।’
জেমস জানান, তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে মেঘালয় এবং বৃহত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য জাতীয় স্তরে আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এই অঞ্চল প্রায়ই সংসদে নিজেদের সমস্যাগুলি তুলে ধরার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
নবনির্বাচিত সাংসদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি সক্রিয়ভাবে তুলে ধরবেন। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে খাসি ও গারো ভাষার অন্তর্ভুক্তি এবং মেঘালয়ে ‘ইনার লাইন পারমিট’ চালু করা। তিনি জানান, এই দুই জ্বলন্ত বিষয় মেঘালয় বিধানসভা ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাস করেছে। তাই তিনি রাজ্যবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা সংসদে তুলে ধরবেন। জেমস বলেন, ‘রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবগুলি যাতে সংসদে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর পায়, তা নিশ্চিত করা আমার কর্তব্য।’
রাজ্যসভায় বিষয়গুলি উত্থাপনের পাশাপাশি সাংমা জানান, তিনি মেঘালয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলির সঙ্গে কাজ করে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির জন্য সহায়তা আদায় এবং সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন আরও উন্নত করার চেষ্টা করবেন।
তাঁর প্রার্থিত্ব নিয়ে জোটের মধ্যে মতপার্থক্যের জল্পনা প্রসঙ্গে সাংমা বলেন, জোটের শরিকরা সর্বসম্মতভাবে তাঁকে সমর্থন করেছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন শরিক দলের নেতা ও বিধায়করাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিভিন্ন নাম ও মতামত থাকা স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর। তবে শেষ পর্যন্ত একটি যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সীমান্ত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জেমস সাংমা বলেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সহ আটকে থাকা প্রকল্পগুলি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনি তুলে ধরবেন। তিনি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের কৌশলগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘মেঘালয়ের জন্য দক্ষিণ দিকের দিকেও নজর দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ বলেন, সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলা এবং ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার সমস্ত উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস