
নয়াদিল্লি, ১১ জুন (হি.স.) : রাজ্যসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট চুরি ও সরকার চুরির পর এবার ‘আসন চুরি’র অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ ভূমিকার ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচনের ফল নির্ধারিত করে দেওয়া হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্রে সমস্ত নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বিচারাধীন মামলা ছিল না। তবুও বিজেপির একটি আপত্তির ভিত্তিতে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়নপত্রে একাধিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, কমিশন প্রথমে সাক্ষাৎ এড়ানোর চেষ্টা করে এবং পরে বৈঠক হলেও কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির পক্ষে নির্বাচন ‘জেতার’ চেয়ে ‘নিয়ন্ত্রণ করা’ সহজ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যসভার প্রার্থিপদ বাতিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নাটরাজন । তিনি অভিযোগ করেছেন, রিটার্নিং অফিসার বেআইনিভাবে, খেয়ালখুশিমতো ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেছেন। সেই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বিচারপতি পি. কে. মিশ্র ও বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকারের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। আদালত মামলাটি শুক্রবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।
মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় মীনাক্ষী নটরাজনকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল কংগ্রেস। তবে একটি বিচারাধীন মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কংগ্রেস ও মীনাক্ষী নটরাজন উভয়েই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আবেদনকারীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কেবল সমন জারি হয়েছিল, কিন্তু সেটিকেই অযোগ্যতার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা আইনের পরিপন্থী।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য