মেয়াদোত্তীর্ণ চালানে বালি পাচারের অভিযোগ, লাউদোহায় গ্রামবাসীদের হাতে আটক বালিবোঝাই লরি
দুর্গাপুর, ১১ জুন (হি.স.) : মেয়াদোত্তীর্ণ চালান ব্যবহার করে বালি পাচারের অভিযোগে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে একটি বালিবোঝাই লরি আটক করলেন গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লরিটি বাজেয়াপ্ত করেছে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফ
মেয়াদোত্তীর্ণ চালানে বালি পাচারের অভিযোগ, লাউদোহায় গ্রামবাসীদের হাতে আটক বালিবোঝাই লরি


দুর্গাপুর, ১১ জুন (হি.স.) : মেয়াদোত্তীর্ণ চালান ব্যবহার করে বালি পাচারের অভিযোগে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে একটি বালিবোঝাই লরি আটক করলেন গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লরিটি বাজেয়াপ্ত করেছে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। বৃহস্পতিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এদিন স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার এলাকায় অজয় নদ থেকে ব্যাপক হারে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ট্র্যাক্টরে করে বালি এনে শ্রীকৃষ্ণপুর ও সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা একাধিক ছাকনি কারখানায় মজুত করা হয়। পরে সেই বালি প্রক্রিয়াকরণের পর বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি কলকাতাতেও পাঠানো হয়। এলাকায় প্রায় ৯০টির মতো বালি ছাকনি কারখানা গড়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই কারখানাগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীরা একটি বালিবোঝাই লরি আটক করে চালকের কাছে বৈধ নথি দেখতে চান। অভিযোগ, চালক যে চালান দেখান তা চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ইস্যু করা হলেও সেদিনই তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আরও অভিযোগ, চালানটি ছিল ট্র্যাক্টরের জন্য, অথচ সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল ১৬ চাকার লরিতে বালি পরিবহণের ক্ষেত্রে। চালানটি বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া এলাকার একটি বালিঘাটের নামে ইস্যু করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টন বালি বোঝাই করে ভারী লরিগুলি নিয়মিত চলাচল করায় জেলা পরিষদের রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওই রাস্তায় ১০ টনের বেশি ওজনের গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা চিরঞ্জিত রাউত বলেন, “বৈধভাবে ব্যবসা হলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করে বৈধতার আড়ালে বেআইনি কারবার চলতে পারে না। ভারী বালির গাড়ির কারণে রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। বহু ছাত্রছাত্রী এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

বিজেপির পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকার কনভেনার বন্ধন ঘোষের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই ধরনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিএলঅ্যান্ডএলআরও দফতর।”

দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালিবোঝাই লরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande