
নয়াদিল্লি, ১১ জুন (হি.স.): পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ঘনঘটার মধ্যেই ভারতের জন্য দুঃখের খবর। ওমান উপকূলে আমেরিকার হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। প্রথমে ওই নাবিকদের নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁদের দেহ মেলে। নিহত তিন নাবিকের মধ্যে একজন হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরের বাসিন্দা এবং অপরজন উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা। মন্ত্রী সর্বানন্দ জানিয়েছেন, ‘এটি মর্মান্তিক ক্ষতি’।
ওমান উপসাগরে ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কার 'এম টি সেত্তেবেলো'-তে মোট ২৮ জন নাবিক ও কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় এবং চার জন বিদেশি। আমেরিকার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি তাদের নির্দেশ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহন করছে বলেই হামলা চালানো হয়। মন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘আমাদের সামুদ্রিক বা মেরিটাইম পরিবারের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই কঠিন সময়ে মোদী সরকার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছে এবং মৃতদের নিকটাত্মীয়দের সব রকম সহায়তা প্রদানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
হরমুজ প্রণালীর কাছে পালাউ-এর পতাকাবাহী জাহাজ 'এমটি সেত্তেবেলো'-র ওপর হামলায় নিহত হয়েছেন হামিরপুরের বাসিন্দা নাবিক আদিত্য শর্মা এবং দেওরিয়ার বাসিন্দা নাবিক শিবানন্দ চৌরাসিয়া। আদিত্য শর্মার এক আত্মীয় বলেন, বিদেশ মন্ত্রক তাঁর (আদিত্য শর্মা) এবং আরও দু'জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর জন্য দায়ী কে? মার্কিন সরকার কি এর দায়ভার নেবে? একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা মানবতার পরিপন্থী। আমি নৌ-পরিবহন মন্ত্রক, আমাদের সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর, মুখ্যমন্ত্রী সুখু এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি যেন আমাদের পরিবারের সদস্যের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন কেন জাহাজটি থামাননি? হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জাহাজ কোম্পানি কি নাবিকদের কাছ থেকে কোনও লিখিত সম্মতি নিয়েছিল? যারা এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন না, ক্যাপ্টেন কি তাঁদের জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করেছিলেন?
নিহত তিন নাবিকের মধ্যে আরেকজন হলেন ভারতীয় নাবিক শিবানন্দ চৌরাসিয়া। তাঁর বাবা বলেন, আমি তিনজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছিলাম। সে চলে যাওয়ার পর থেকে ৯ মাস কেটে গেছে। এ বিষয়ে দেওরিয়ার জেলাশাসক মধুসূদন হুলগি বলেন, আমাদের জেলায় নিখোঁজ ও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করব এবং রাজ্য সরকার ও ভারত সরকারের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানাব। পরিবারটির যে ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন হবে, তা জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ