
নয়াদিল্লি, ১১ জুন (হি.স.) : ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক-সম্পৃক্ত জাহাজ এমটি জলবীর-এ মার্কিন হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। পরপর তৃতীয়বার ভারতীয় নাবিকদের সঙ্গে যুক্ত জাহাজে হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে ভারত জানিয়েছে, এই ধরনের আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে তলব করে ভারতের গভীর উদ্বেগ ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের কথা জানানো হয়েছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের জড়িয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ভারত তার নাবিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।”
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রত্যক্ষ ফল। এই ধরনের আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা আবশ্যক। ভারত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ এবং কূটনৈতিক স্তরে ধারাবাহিকভাবে এই বিষয়টি উত্থাপন করে চলেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের উপসাগরীয় বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব অসীম আর মহাজন জানান, পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকার নিবিড় নজর রাখছে। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ভারতীয়দের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা, বিমান চলাচল সংক্রান্ত তথ্য, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কনস্যুলার পরিষেবার বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়মিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় সম্প্রদায়, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এদিকে এমটি জলবীর-এ হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে কংগ্রেসও। দলের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে অবিলম্বে সহায়তা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কংগ্রেস মৃত নাবিকদের মরদেহ দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং ঘটনার জন্য দায় নির্ধারণের দাবিও তুলেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, ওমান উপকূলের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। গত ১০ জুন পালাউ-নিবন্ধিত ট্যাঙ্কার এমটি সেটেবেলো-তে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন হিমাচল প্রদেশের ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা, ইঞ্জিনিয়ার পি সুরেশ এবং ইঞ্জিন ফিটার শিবনন্দ চৌরাসিয়া। জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায়ও মার্কিন পক্ষের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত।
এর আগে ৮ জুন পালাউ-নিবন্ধিত এমটি মেরিভেক্স জাহাজ ওমান উপকূলের কাছে হামলার শিকার হয়। ওই জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের সহায়তা করেছিল।
প্রসঙ্গত, ওমান উপকূলে হামলায় নিহত তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করে জানান, নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি মৃত নাবিকদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য