
নয়াদিল্লি, ১১ জুন (হি.স.): তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনার মধ্যে আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা স্পষ্ট জানালেন, তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এবং তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন। বৃহস্পতিবার শত্রুঘ্ন জানান, প্রথমেই, আমাকে অগাধ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য এবং বারবার আমার জয় নিশ্চিত করার জন্য আমি আসানসোল ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। আমি প্রথমবার দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)-র আমন্ত্রণে এবং তাঁরই নির্দেশে আসানসোলে এসেছিলাম। সেখানে আমার প্রথম নির্বাচনেই, তৎকালীন উপনির্বাচনে আমি রেকর্ড ব্যবধানে জয়লাভ করি। পরবর্তীতে, দ্বিতীয়বারও আমি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হই। তাই, আমি বিশেষভাবে মমতা জি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সর্বোপরি আসানসোল ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, আমি সবসময় বাংলার সব মানুষের জন্য কাজ করেছি, তারা যে দলেরই হোক না কেন বা আমাকে ভোট দিক বা না দিক। আমি আমার দায়িত্ব বুঝি এবং তা ভবিষ্যতেও পালন করে যাব।
এদিন শত্রুঘ্ন সিনহা আরও জানান, ২০১৯ সালে পাটনা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আমি যখন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন খুব কম মানুষই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সেই অল্প কয়েকজন মানুষের মধ্যে একজন, যিনি আমাকে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আমার সংসদীয় যাত্রায় কোনও বিরতি না রেখে জনসেবা চালিয়ে যাওয়া উচিত, এবং তাঁরই নির্দেশে আমি আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। ঈশ্বরের কৃপায় এবং মমতা জি ও আসানসোলের মানুষের সমর্থনে আমি জয়লাভ করেছি। গত কয়েকদিন ধরে আমাকে নিয়ে অনেক জল্পনা চলছে। কিছু মানুষ সত্যি বলছেন, আবার কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে আমি তথাকথিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছি। আমি সবসময় স্পষ্টবাদী। আমি প্রায়শই বলি যে সত্যি কথা বলা যদি বিদ্রোহ হয়, তবে আমিও একজন বিদ্রোহী। আমি সবসময় খোলাখুলি কথা বলেছি এবং অপ্রিয় সত্যি কথা মুখের ওপর বলতে পিছপা হইনি। তবে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, মমতা জি আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং আজ তাঁর কঠিন সময়ে আমি তাঁকে ছেড়ে যেতে পারি না। আমি ঈশ্বরের আশীর্বাদে একবার নয়, দু-দুবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক 'জোড়া ফুল'-এ নির্বাচিত হয়েছি। তাই মমতা জি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য ও দায়িত্ব।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ