
শিলিগুড়ি, ১২ জুন (হি.স.) : শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখেই তৃণমূল কংগ্রেস তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শুক্রবার তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে “তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে” এবং দলের ভেতরে সাংসদদের সমর্থন নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্যসভার পর এবার লোকসভারও প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষরিত চিঠি সামনে আসায় দলের অন্দরের তীব্র অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে গেছে। শাসকদলকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “ওদিকে কতজন সাংসদ আছেন তা গোনার দরকার নেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কতজন আছেন সেটা গুনুন—দেখবেন সংখ্যাটা প্রতিনিয়ত কমছে।” তাঁর দাবি, ধীরে ধীরে সমস্ত নেতাই দল ছেড়ে অন্য দিকে চলে যাবেন।
সম্প্রতি আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আদালতের কড়া নির্দেশের কারণেই তাঁকে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে। এর আগে সিবিআই বা ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলবকে যেভাবে এড়িয়ে যাওয়া হতো, এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “যাঁরা রাজার মতো জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁদের এখন আদালতের চক্কর কাটতে হচ্ছে।”
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতভেদের বিষয়টি উল্লেখ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বহু প্রবীণ ও বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। প্যারাসুটে করে উড়ে এসে কেউ হঠাৎ নেতা হয়ে যাবেন, এটা দলের পুরনো ও আদি নেতারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে তারা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখবে নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
তিনি আরও জানান, এদিন মালদায় একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি, যেখান থেকে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে পরবর্তী রূপরেখা ও আরও বক্তব্য সামনে আসতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি