
সেলম, ১২ জুন (হি.স.) : কাবেরী ডেল্টার বিস্তীর্ণ কৃষিজমির দিকে তাকালে আজ এক ধরনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। নির্ধারিত ১২ জুন, যেদিন মেট্টুর বাঁধ থেকে কুরুভাই ধানের সেচের জন্য জল ছাড়া হয়, এ বছর সেই ঐতিহ্য ভাঙল। বাঁধ থেকে জল ছাড়া হয়নি। বাঁধে জলস্তর ও আগত প্রবাহ দুটিই প্রত্যাশিত সীমার নিচে। ফলে প্রশাসন সেচ মৌসুম শুরু করতে পারেনি।
মেট্টুর শুধু একটি বাঁধ নয়। কাবেরী ডেল্টার প্রায় ১৬.০৫ লক্ষ একর কৃষিজমির জীবনরেখা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ১২ জুন থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই জলই কৃষির ভিত্তি হয়ে এসেছে। কিন্তু সেই সময়সূচি এবার কার্যত স্থগিত।
এই বছর বাঁধের জলস্তর মাত্র ৭৯.৬২ ফুট, যেখানে প্রয়োজনীয় মান ৯০ ফুটের কাছাকাছি। জলপ্রবাহও অত্যন্ত কম—মাত্র ৪২৪ কিউসেক। ফলে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কৃষকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সময়মতো বপন শুরু না হলে কুরুভাই ধানচাষ পিছিয়ে যাবে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদনে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু কৃষকদের নয়, কৃষিশ্রমিকদের জীবিকাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।
কাবেরী নদীর জলচক্রে মূল ভূমিকা থাকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমির। কেরলম ও কর্নাটকের অববাহিকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে জল আসে কাবেরী হয়ে মেট্টুরে। কিন্তু এবার সেই বৃষ্টিপাতও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
কর্নাটকের কাবিনী বাঁধেও জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে—৩১.৮৪ ফুট। প্রবাহও সীমিত, ফলে আগামী দিনে মেট্টুরে পর্যাপ্ত জল পৌঁছনোর সম্ভাবনা কম।
সরকারি নথি বলছে, ইতিহাসে এটি ৬১তম ঘটনা যখন নির্ধারিত দিনে কুরুভাই সেচের জল ছাড়া সম্ভব হয়নি। মাত্র ২০ বছরে ১২ জুনে সময়মতো জল ছাড়া হয়েছে।
গত বছরও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, জল ছাড়া হয়েছিল দেরিতে, পরে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করতে হয়েছিল।
এ বছরও রাজ্য সরকার ১৩৪.৮৩ কোটি টাকার কুরুভাই সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যাতে বিকল্প সেচ ও কৃষি সহায়তা দেওয়া যায়।
তবু কৃষকের চোখ এখন আকাশে। বৃষ্টি এবং উপরের অববাহিকায় জলবৃদ্ধিই একমাত্র আশা যা নির্ধারণ করবে এই মরশুমে কাবেরী ডেল্টার ভাগ্য।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য