
কলকাতা, ১২ জুন (হি.স.): ডায়মন্ড হারবারের লোকসভা সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে হানা দিল রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিধানসভা নির্বাচন প্রচারের সময় করা একটি কথিত উস্কানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় শুক্রবার বিকেলে তাঁকে নোটিস দিতে যান সিআইডি আধিকারিকরা।
সূত্র মারফত জানা গেছে, নির্বাচন প্রচার চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। শুরুতে এই বিষয়ে বাগুইআটি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানা এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা সিআইডি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার সেই মামলারই নোটিস দিতে সিআইডি-র একটি দল অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছায়। তবে সিআইডি আধিকারিকরা যখন সেখানে যান, তখন সাংসদ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, তদন্তকারীরা পৌঁছানোর কিছু সময় আগেই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক ও আবাসন সূত্র মারফত জানা গেছে, সিআইডি আধিকারিকদের জানানো হয় যে, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে গেছেন অভিষেক। ফলত, সিআইডি প্রতিনিধি দল তাঁর হাতে নোটিসটি তুলে দিতে পারেনি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আগামী সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে পুনরায় তলব করতে পারে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য স্তরের এই তদন্তকারী সংস্থা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আলোড়নের মধ্যেই অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছান তাঁর আইনজীবী। তবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এই মুহূর্তেই পুরো ঘটনা বা মামলার খুঁটিনাটি তাঁর জানা নেই। সমস্ত নথিপত্র এবং বিষয় খতিয়ে দেখার পরেই তাঁরা এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেবেন।
উল্লেখ্য, এই পুরো মামলাটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। ভোট আবহে তিনি বলেছিলেন, “চার তারিখের পর ডিজে বাজবে।” এর পাশাপাশি নিজের ভাষণে তিনি আরও যোগ করেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতটাই উদার হোন না কেন, চার তারিখের পর এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পরই সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ ছিল, এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার সামিল এবং সমাজে উস্কানি ছড়ানোর চেষ্টা। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিআইডি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি