
হুগলি , ১২ জুন (হি.স.) : চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা সালেপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান গুণধর খাঁড়ার বাড়িতে বিক্ষোভ দেখালেন একাধিক চাকরিপ্রার্থী। শুক্রবার আরামবাগের পাঁচমাইল এলাকায় তাঁর ফার্মে গিয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হন ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গুণধর খাঁড়াকে দিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতিপত্র নেওয়া হয়। বিক্ষোভের মধ্যে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।
চাকরি প্রার্থীদের দাবি, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জনের কাছ থেকে টাকা তোলা হলেও কারও চাকরি হয়নি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফেরত মেলেনি টাকাও। এদিন প্রায় ১৫ জন চাকরিপ্রার্থী টাকা ফেরতের দাবিতে গুণধর খাঁড়ার কাছে যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরাও। তাঁদের উপস্থিতিতেই গুণধর খাঁড়াকে লিখিতভাবে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিতে হয় বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
অভিযোগ অস্বীকার না করে গুণধর খাঁড়া বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম। সেই টাকা তৎকালীন হুগলি জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছিলাম। ধীরে ধীরে সকলের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
চাকরিপ্রার্থী রিতা দাসের দাবি, মেয়ের চাকরির জন্য সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত মাত্র এক লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছেন। অন্য চাকরিপ্রার্থী স্বদেশ সামন্ত বলেন, “সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু এখনও একটি টাকাও ফেরত পাইনি।”
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সুশীতল রায়ের অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থাকাকালীন চাকরির নাম করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। সেই কারণেই আজ ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA