
দুন্ডিগাল, ১৩ জুন (হি.স.): যুদ্ধের সংজ্ঞায় এখন আমূল পরিবর্তন এসেছে, এমনই মন্তব্য করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের এই যুদ্ধব্যবস্থা ও কৌশলগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করার আহ্বান জানালেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শনিবার সকালে তেলেঙ্গানার দুন্ডিগালে অবস্থিত বায়ুসেনা একাডেমিতে (এএফএ) ২১৭-তম কোর্সের ‘কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড’ (সিজিপি) পরিদর্শন করেন। এদিন এয়ার ফোর্স একাডেমিতে আয়োজিত যৌথ সমাবর্তন কুচকাওয়াজে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ভারতীয় বায়ুসেনা সর্বদা ভারতের ঢাল ও তলোয়ার হিসেবে কাজ করেছে। সম্প্রতি 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় আপনাদের সকলের মধ্যে আমরা সেই একই মনোভাব দেখেছি। আমাদের বায়ুসেনা অত্যন্ত নিখুঁত ও সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাসবাদীদের গোপন আস্তানাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা যে এত বড় একটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি, তার পেছনে ছিল আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সামরিক সরঞ্জাম এবং সেই সঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রশিক্ষিত, সাহসী ও সুশৃঙ্খল কর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতেও বিভিন্ন অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনাকে এভাবেই নিজেদের ভূমিকা পালন করতে দেখা যাবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, এতদিন পর্যন্ত যুদ্ধের ক্ষেত্রে সাধারণত দু'টি প্রধান বৈশিষ্ট্য বা মাধ্যম ছিল—সৈন্য এবং যুদ্ধসরঞ্জাম। কিন্তু বর্তমান সময়ের যুদ্ধগুলিতে অনেক ক্ষেত্রেই আক্রমণকারী সৈন্য বা আক্রমণ পরিচালনাকারী অস্ত্রটিকে সরাসরি দেখা যায় না। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রাডার, স্যাটেলাইট, ড্রোন, সেন্সর এবং রোবোটিক্সের মতো অসংখ্য ব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধরত পক্ষ কিংবা তাদের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন এমন পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে যেখানে এমনকি ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণও প্রতিপক্ষের হাতে চলে যাচ্ছে। যুদ্ধের সংজ্ঞায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আমি নিশ্চিত, আপনাদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন কর্মসূচি এবং মহড়া আপনাদের অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলেছে। আমি আপনাদের—অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের—আহ্বান জানাব, আপনারা যেন ভবিষ্যতের এই যুদ্ধব্যবস্থা ও কৌশলগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন।
রাজনাথ সিং বলেন, আপনাদের দূরদর্শী চিন্তাধারা ২০৪৭ সালের মধ্যে আমাদের একটি বিকশিত ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আমি এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং-কে আমার শুভেচ্ছা জানাই। আপনি কেবল একজন টেস্ট পাইলটই নন, বরং একজন পরীক্ষিত সামরিক নেতাও। আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে, আপনার নেতৃত্বে ভারতীয় বায়ুসেনা সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে থাকবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ