শ্রীভূমিতে ডায়েট-এর উদ্যোগে সম্পন্ন জেলা পর্যায়ের বাল বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী
শ্রীভূমি (অসম), ১৪ জুন (হি.স.) : শ্রীভূমিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং’ সংক্ষেপে ডায়েট বা জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান-এর উদ্যোগে ২০২৬ শিক্ষাবৰ্ষের ‘ডিস্ট্রিক্ট লেভেল চিন্ড্রেনস সায়েন্স এগজিবিশন’
বক্তব্য পেশ করছেন শ্রীভূমির বিদ্যালয়সমূহের পরিদর্শক নীলমজ্যোতি দাস


বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শংসাপত্র গ্রহণকারীদের একাংশ


শ্রীভূমি (অসম), ১৪ জুন (হি.স.) : শ্রীভূমিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং’ সংক্ষেপে ডায়েট বা জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান-এর উদ্যোগে ২০২৬ শিক্ষাবৰ্ষের ‘ডিস্ট্রিক্ট লেভেল চিন্ড্রেনস সায়েন্স এগজিবিশন’ (‘জেলা পর্যায়ের বাল বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী সংক্ষেপে ডিএলবিভিপি)।

এ উপলক্ষ্যে নয়াদিল্লির এনসিইআরটি-র নির্দেশনা এবং অসমের এসসিইআরটি-র তত্ত্বাবধানে গত ১১ এবং ১২ জুন দুদিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শ্রীভূমি জেলার সমস্ত ব্লকের রাজ্য-স্বীকৃত স্কুল ও কলেজের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মোট ৩২টি প্রকল্প বৈজ্ঞানিক মঞ্চে অংশগ্রহণ করেছে।

আজ রবিবার ডায়েট-এর সিনিয়র লেকচারার মিষ্টু ভট্টাচার্য এক বিবৃতিতে এ তথ্য দিয়ে জানান, গত ১১ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমির বিদ্যালয়সমূহের পরিদর্শক তথা এসডিসি নীলমজ্যোতি দাস। প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রধান অতিথি নীলমজ্যোতি।

অনুষ্ঠানে ডায়েট শ্রীভূমির অধ্যক্ষ মহুল চৌধুরী, বিচারক কল্লোল রায় (লেকচারার ও বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিদ্যা, করিমগঞ্জ পলিটেকনিক), ভবানী দাস (অধ্যক্ষ, পাইওনিয়ার কলেজ, কালিগঞ্জ এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ, ডায়েট শ্রীভূমি) এবং সমন্বয়কারী বিপ্লব দে উপস্থিত ছিলেন। ডায়েট শ্রীভূমির শিক্ষকবৃন্দ একটি মনোরম উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। পরে বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে নীলমজ্যোতি দাস তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা গড়ে তুলতে বিজ্ঞান প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে সকল অংশগ্রহণকারীকে শুভেচ্ছা জানান। অধ্যক্ষ মহুল চৌধুরী প্রধান অতিথিকে প্রদর্শনীর বিভিন্ন মডেল ঘুরিয়ে দেখান। দুই বিচারক পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং টেকসই জল ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩২টি প্রকল্প মূল্যায়ন করেন। প্রথম দিনের প্রদর্শনী বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে।

দ্বিতীয় দিন, ১২ জুন দুই বিশিষ্ট বক্তা যথাক্রমে ড. পার্থসারথি দাস, অধ্যক্ষ, নবীনচন্দ্র কলেজ, বদরপুর এবং কল্লোল রায়, পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান, করিমগঞ্জ পলিটেকনিক এনসিইআরটি/এসসিইআরটি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী বিজ্ঞান ও গণিতের জনপ্রিয়করণ বিষয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য পেশ করেন। ডায়েট-এর শিক্ষকবৃন্দ উভয় বক্তাকে উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করেন।

মধ্যাহ্নভোজনের পর দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর পরিবেশিত মনোমুগ্ধকর রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে। এর পর ৩২ জন অংশগ্রহণকারীকে শংসাপত্র প্রদান করা হয়। রাজ্যস্তরীয় প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত পাঁচটি প্রকল্পের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এগুলি যথাক্রমে -

১. ঋদ্ধি দেবী — কমপ্যাক্ট ক্যালেন্ডার (এনএইচ রয়্যাল বিদ্যাপীঠ, পাথারকান্দি)। ২. জয়প্রকাশ নমঃশূদ্র ও আনন্দী নমঃশূদ্র — প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (পল্লীশ্রী এমইএস, দক্ষিণ শ্রীভূমি)। ৩. অনামিকা গোয়ালা ও নিকিতা খণ্ডাইত — স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা (মুক্তিযোদ্ধা গঙ্গা দয়াল দিক্ষিত আদর্শ বিদ্যালয়, পাথারকান্দি)। ৪. ঋদ্ধিমান দাস ও দেবারুণ নাথ — হাইব্রিড সৌর ও বায়ু শক্তি (করিমগঞ্জ সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল অব সায়েন্স, আরবান)। ৫. উর্মি চন্দ ও পূর্বী দত্ত — বৃষ্টির জল : ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই সমাধান (ভিকমচাঁদ বালিকা বিদ্যানিকেতন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আরবান)

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন সিনিয়র লেকচারার মিষ্টু ভট্টাচার্য, দীপান্বিতা পাল, পুষ্পিতা পাল, লেকচারার বিশাল দত্ত, সাবিনা বেগম আহমেদ, খালিদা জিয়া, শতরূপা ভট্টাচার্য, সৌরভ সেন (ইনস্ট্রাক্টর বিটিসি, শ্রীভূমি), অতিথি লেকচারার মহম্মদ আবুল হাসান তাপাদার এবং অশিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে সঞ্জু রায় (হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট), হারুন রশিদ, আবদুল জলিল (ইউডিএ), প্রদীপ সিনহা, রূপন নাথচৌধুরী (স্টেনোগ্রাফার), রাজীব দেব, রাজেশকুমার দাস (এলডিএ), খলিলুর রহমান, অমূল্যকুমার তাঁতি, সুপন্থ দেব, সাহিন আহমেদ চৌধুরী, মহম্মদ কামাল উদ্দিন, জয়ন্ত দেবনাথ, ঈশিত ভট্টাচার্য এবং সামিম আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শেষে সমন্বয়কারী বিপ্লব দে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande