সাব্রুম রেলস্টেশনে পৌঁছল বহুল প্রতীক্ষিত মেমু ট্রেন, উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ ত্রিপুরার মানুষ
সাব্রুম (ত্রিপুরা), ১৪ জুন (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বহুল প্রতীক্ষিত বৈদ্যুতিক মেমু (মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন রবিবার আগরতলা থেকে সফল ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে সাব্রুম রেলস্টে
রেল লাইন


সাব্রুম (ত্রিপুরা), ১৪ জুন (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বহুল প্রতীক্ষিত বৈদ্যুতিক মেমু (মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন রবিবার আগরতলা থেকে সফল ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে সাব্রুম রেলস্টেশনে এসে পৌঁছেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই ট্রেনের আগমনে রেলপ্রেমী, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিষেবা শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে চলতি মাসের মধ্যেই আগরতলা-সাব্রুম রুটে নিয়মিত মেমু ট্রেন পরিষেবা চালু হতে পারে। ট্রায়াল রান সফল হওয়ায় পরিষেবা শুরুর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

বর্তমানে আগরতলা-সাব্রুম রুটে ডিজেলচালিত ট্রেন চলাচল করছে। নতুন মেমু ট্রেন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে, যা পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ও দ্রুতগতির পরিষেবা নিশ্চিত করবে। ১২ কোচ বিশিষ্ট এই আধুনিক ট্রেনে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, উন্নতমানের আসন, পর্যাপ্ত দাঁড়ানোর জায়গা, জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা সুবিধা রাখা হয়েছে।

মেমু ট্রেনের আগমনের খবরে শনিবার সাব্রুম রেলস্টেশনে বহু মানুষ ভিড় জমান। ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর সময় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি রেলপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগরতলা-সাব্রুম রুটে আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা চালু হলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এটি বড় সুবিধা নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও সরকারি এই সম্পদের সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ট্রেনের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আসন ও অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষতি না করা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সর্বোপরি, সাব্রুমে মেমু ট্রেনের আগমন দক্ষিণ ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যাত্রী পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande