
নয়াদিল্লি, ১৪ জুন (হি.স.): তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দক্ষিণ দিল্লির তুঘলকাবাদে একটি বাড়িতে আগুন লেগে গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ৮ জন। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, এটি দুর্ঘটনা। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরে পুলিশ বুঝতে পারে, গোটাটাই পরিকল্পিত চক্রান্ত। পুলিশ জানিয়েছে, সেই রাতে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে এক নাবালিকাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। জেরের মুখে সে স্বীকার করে, সরিতা নামে এক মহিলার কথায় ওই বাড়ির নীচে রাখা একটি স্কুটারে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। তার জন্য পেট্রল এবং দেশলাই ওই মহিলাই দিয়েছিল।
কিছুক্ষণের মধ্যে সেই আগুন গোটা বাড়িকে গ্রাস করে। তিন জন মারা যান। জেরায় উঠে আসে, নিরঞ্জন এবং রাজকুমার নামে আরও দুই যুবক এই চক্রান্তে জড়িত। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে বিবাদ চলছিল তাদের। নাবালিকাকে হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি বাকি তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের সময় গোবিন্দ পুরীর নবজীবন ক্যাম্পের এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে গ্রেফতার করা হয়। সে স্বীকার করে, গোবিন্দ পুরীর গিরিনগরের বাসিন্দা সারিতা (২৭) তাকে এই কাজে প্ররোচিত করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীপক নামের এক বাসিন্দার (যিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলায় থাকেন) স্কুটিতে আগুন লাগানোর জন্য সারিতা তাকে পেট্রোল ও দেশলাই দিয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, সারিতা নবজীবন ক্যাম্পের বাসিন্দা নিরঞ্জন (৩৩) ও তার ভাই রাজকুমারের (২৭) নির্দেশে এই কাজ করছিল। ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর উদ্দেশ্যেই তারা তিনজন মিলে এই অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃত হত্যা, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন এবং গোপনে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছে। ওই কিশোরী-সহ চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ