
চেন্নাই, ১৪ জুন (হি.স.) : টানা ৬১ দিনের অপেক্ষার অবসান। রবিবার মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য ধরার বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা। ফলে সোমবার ভোর থেকেই ফের সমুদ্রে পাড়ি দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তামিলনাড়ুর এক লক্ষেরও বেশি মৎস্যজীবী। নতুন মাছ ধরার মরশুমকে ঘিরে উপকূল জুড়ে ফিরেছে ব্যস্ততা ও আশাবাদ।
তামিলনাড়ুর বিভিন্ন মৎস্যবন্দর ও উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি যন্ত্রচালিত মাছ ধরার নৌকা আবার সমুদ্রে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে এই নৌকাগুলি বন্দরে নোঙর করা ছিল।
বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রজনন মরশুমে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সময় তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব উপকূলে যন্ত্রচালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে।
নিষেধাজ্ঞার সময়টিকে কাজে লাগিয়ে জেলেরা নৌকার ইঞ্জিন মেরামত, জাল সংস্কার এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
রবিবার চেন্নাইয়ের কাসিমেডু-সহ বিভিন্ন মৎস্যবন্দরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বরফ, জ্বালানি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করতে ব্যস্ত ছিলেন মৎস্যজীবীরা। নির্বিঘ্নে মাছ ধরার কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মৎস্য দফতর এবং বন্দর কর্তৃপক্ষও।
তিরুভল্লুর, চেঙ্গলপট্টু, কাডালুর, তাঞ্জাভুর, নাগাপট্টিনম, ময়িলাদুথুরাই, রামনাথপুরম, তুতিকোরিন, তিরুনেলভেলি ও কন্যাকুমারী-সহ তামিলনাড়ুর বিভিন্ন উপকূলবর্তী জেলা, পাশাপাশি পুদুচেরি ও কারাইক্কাল থেকেও বিপুল সংখ্যক নৌকা সমুদ্রে নামবে।
মৎস্য ধরার কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় শুধু মৎস্যজীবীরাই নন, মাছ ব্যবসায়ী, পরিবহণকর্মী, প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের জীবিকায়ও নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছরের এই নিষেধাজ্ঞা মাছের মজুত রক্ষা, সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য