মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের আগে বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ কংগ্রেসের
নয়াদিল্লি, ১৪ জুন (হি.স.) : ১৭ জুন ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয়গুলি জোরালোভাবে তুলে ধরার দাবি জানা
মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের আগে বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ কংগ্রেসের


নয়াদিল্লি, ১৪ জুন (হি.স.) : ১৭ জুন ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয়গুলি জোরালোভাবে তুলে ধরার দাবি জানাল কংগ্রেস। দলের মতে, ওমান উপকূলে মার্কিন অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান—এই বিষয়গুলিতে ভারতের স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত।

রবিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কি মার্কিন অভিযানে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের কড়া আপত্তি তুলে ধরবেন? পাশাপাশি মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ও বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের আলোচনায় ব্যবহৃত ভাষার বিষয়টিও তিনি উত্থাপন করবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। জয়রাম রমেশ বলেন, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার শীঘ্রই ভারত সফরে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কিছু শর্ত ভারতীয় কৃষক ও দেশীয় শিল্পের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বাতিল করার পরও ভারত সরকার বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা করেনি, যা উদ্বেগের বিষয়।

কংগ্রেস নেতা মার্কিন বিদেশসচিবের সেই মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন, যেখানে আগামী পাঁচ বছরে ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এবং ভারতের উচিত নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।

এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারিও কেন্দ্রকে আমেরিকার সামনে ভারতের উদ্বেগ দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ভারতের প্রতি মার্কিন নীতি পুরোপুরি বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। অবৈধভাবে আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের প্রত্যাবর্তন, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা—এই বিষয়গুলি দুই দেশের সম্পর্কে একাধিকবার উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তিওয়ারির মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত আসন্ন বৈঠকে ভারতের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে মার্কিন প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা।

কংগ্রেসের দাবি, মোদী-ট্রাম্প বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারতের একটি দৃঢ় ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande