
ঝাড়গ্রাম, ১৪ জুন (হি.স.) : সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, বিকাশ এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিকে সামনে রেখে রবিবার ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি হোটেলে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ‘সুবর্ণরৈখিক পরিবার’। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত দুই মন্ত্রী এবং দুই বিধায়কদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো, নয়াগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অমিয় কিস্কু, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ এবং বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু।
অনুষ্ঠানের সূচনায় সুবর্ণরৈখিক পরিবারের মুখ্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমারকার ভাষা, আমারকার গর্ব’ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় জঙ্গলমহলের উন্নয়নের পাশাপাশি সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার আরও জোরদার হবে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ মাহাতো ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। তিনি নিজের বক্তব্যের একটি অংশ সুবর্ণরৈখিক ভাষাতেও উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রী অমিয় কিস্কুও ভাষাটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং চর্চা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনিও নিজের বক্তব্যের কিছু অংশ সুবর্ণরৈখিক ভাষায় রাখেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহের সঞ্চার করে।
তবে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের বক্তব্য। তিনি তাঁর সম্পূর্ণ বক্তৃতাই সুবর্ণরৈখিক ভাষায় দেন। ভাষার স্বীকৃতি ও সাংস্কৃতিক বিকাশের আন্দোলনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে যেমন আন্দোলন চলছে, তেমনই সুবর্ণরৈখিক ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সুবর্ণরৈখিক ভাষার সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি ভাষাপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একাংশ ভাষাটির সরকারি স্বীকৃতির দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো