
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (হি.স.): গ্রেট নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড় (এনভিরোনমেন্টাল ক্লিয়ারন্স) এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে ফের কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে চিঠি লিখেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ। শুক্রবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া জবাব হতাশাজনক এবং তাঁর উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক উত্তর তাতে নেই।
জয়রাম রমেশের অভিযোগ, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং তা পরিবেশ মন্ত্রকের নিজস্ব নির্দেশিকাকেই লঙ্ঘন করেছে। তাঁর দাবি, সরকার প্রকল্প-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত, আইনি ও বৈজ্ঞানিক প্রশ্নগুলির উত্তর না দিয়ে পুরনো বক্তব্যই পুনরাবৃত্তি করছে এবং মূল বিষয়গুলি এড়িয়ে যাচ্ছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের ছয় মাস অন্তর সম্মতি-সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ বাধ্যতামূলক হলেও ২০২৪ সালের মার্চের পর থেকে কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রকল্প পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণীও দীর্ঘ বিলম্বে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে, যা গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর পরিবেশগত ছাড় দেওয়ার সময় ১৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন সংরক্ষণ ও প্রশমন পরিকল্পনা জমা দেওয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠান, ভারতীয় প্রাণীবিজ্ঞান সমীক্ষা, ভারতীয় উদ্ভিদ সমীক্ষা এবং আন্দামান-নিকোবর বন দফতরের প্রস্তুত করা সেই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পর কিছু সংস্থার কাছ থেকে সংশোধিত পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছিল। মূল্যায়নের পর পরিকল্পনা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নয় এবং এর ফলে নথিগুলির গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১২টি গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি হালনাগাদ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও এখনও প্রকাশ করা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, প্রকল্প-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তবুও পরিবেশগত ছাড় দেওয়া হয়েছে তড়িঘড়ি এবং রাজনৈতিক চাপে। তাঁর মতে, প্রবালপ্রাচীর (কোরাল রিফ) স্থানান্তরের মতো প্রশমন ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন।
জয়রাম রমেশ আরও বলেন, জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের দাবিও সরকার মানেনি। তাঁর দাবি, তিনি যে নথি, গবেষণা বা রিপোর্ট প্রকাশের কথা বলছেন, সেগুলির সঙ্গে দেশের কৌশলগত বা নিরাপত্তা স্বার্থের কোনও সংঘাত নেই। বরং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র যুক্তিকে প্রকল্পের দুর্বলতা আড়াল করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও জয়রাম রমেশ এই প্রকল্প নিয়ে দু’দফায় কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। ১০ মে পাঠানো চিঠিতে তিনি পরিবেশগত ছাড়ের প্রক্রিয়াকে ‘বিজ্ঞানের অবমাননা’ এবং ‘পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে ২৭ মে ভূপেন্দ্র যাদব জানিয়েছিলেন, এক ঋতুর মাঠপর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে ইসরো, জেডএসআই এবং বিএসআই-এর দীর্ঘ ১৭ বছরের উপগ্রহ ও ঐতিহাসিক তথ্য মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশিকা অনুযায়ী বৈধ।
এরপর ৩ জুন জয়রাম রমেশ পাল্টা চিঠিতে দাবি করেন, ঐতিহাসিক তথ্য কখনও সরাসরি মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক তথ্যের বিকল্প হতে পারে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে সংস্থাগুলি মূল রিপোর্ট তৈরি করেছে, তাদের দিয়েই সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করানো হয়েছে, যা নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পরিপন্থী। এছাড়া এনজিটিতে জমা দেওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির রিপোর্ট ‘সিলবন্দি খামে’ রেখে জনসমক্ষে প্রকাশ না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর জবাবে গত ১৩ জুন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব পুনরায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে তথ্যের অধিকার আইনের ৮(১)(এ) ধারার আওতায় কিছু তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি কচ্ছপ ও স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমস্ত পরিবেশগত বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য