
সারণ, ১৯ জুন (হি.স.): সারণ জেলার জন্য শুক্রবারের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকল। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ছাপরা জংশন থেকে নতুন ছাপরা-আনন্দ বিহার সাপ্তাহিক সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস-এর উদ্বোধন করে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করান। নতুন এই ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় এলাকাজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। দিল্লি-এনসিআরের সঙ্গে সারণের রেল যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উদ্বোধনের আগে বিশেষ ট্রেনে করে ছাপরা স্টেশনে পৌঁছে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাপরার মাটি ইতিহাস ও সংগ্রামের সাক্ষী। এই মাটিই দেশকে লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো ব্যক্তিত্ব উপহার দিয়েছে, যিনি জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, সাংসদ রাজীব প্রতাপ রুডি, জনার্দন সিং সিগ্রিওয়াল-সহ জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিহারে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। আগে যেখানে রাজ্যটি সীমিত রেল বাজেট পেত, সেখানে এখন রেল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বেড়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
রেলমন্ত্রী জানান, এই বরাদ্দের ফলে বিহারজুড়ে নতুন রেললাইন নির্মাণ, তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন বসানো, রেল ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ৯৮টি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিহারে ১১টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং ১৪টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল করছে। পাশাপাশি আগামী দিনে লখনউ–বারাণসী–পাটনা–শিলিগুড়ি রুটে প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সুবিধাও পাবে বিহার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে পাটনা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৪১ মিনিট।
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রের সহযোগিতায় বিহারে এক লক্ষ কোটিরও বেশি টাকার রেল প্রকল্পে দ্রুত কাজ চলছে। প্রতি বছর রেল উন্নয়নের জন্য রাজ্যকে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এর ফলে বিহারের ৩৮টি জেলার মধ্যে ৩৬টিই কার্যকরভাবে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন রেল প্রকল্পগুলি রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিহারের সামগ্রিক উন্নয়নে ভারতীয় রেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুপুর প্রায় ২টা ২৫ মিনিটে রেলমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী যৌথভাবে নতুন ট্রেনটির উদ্বোধন করেন। নিয়মিত পরিষেবা অনুযায়ী ১২৫২৭ নম্বর ছাপরা-আনন্দ বিহার এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ছাপরা থেকে ছেড়ে পরদিন দুপুর ২টায় আনন্দ বিহার টার্মিনালে পৌঁছবে। অপরদিকে ১২৫২৮ নম্বর আনন্দ বিহার-ছাপরা এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে আনন্দ বিহার থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছাপরায় পৌঁছবে।
সুপারফাস্ট ট্রেনটি বলিয়া, মউ, আজমগড়, শাহগঞ্জ, জৌনপুর, সুলতানপুর, লখনউ, কানপুর সেন্ট্রাল, আলিগড় এবং গাজিয়াবাদ স্টেশনে থামবে। নতুন এই পরিষেবার ফলে ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি সারণ জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব প্রতাপ রুডি, জনার্দন সিং সিগ্রিওয়াল, বিধান পরিষদ সদস্য বীরেন্দ্র নারায়ণ যাদব ও সচ্চিদানন্দ রায়, বিধায়ক জনক সিং, বিনয় সিং, মনোরঞ্জন সিং (ধুমল), ছোটী কুমারী-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। এছাড়াও পূর্বোত্তর রেল ও পূর্ব মধ্য রেলের মহাপ্রবন্ধক, জেলাশাসক বৈভব শ্রীবাস্তব, পুলিশ সুপার বিনীত কুমার এবং বারাণসী ডিভিশনের রেল আধিকারিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ), জিআরপি এবং জেলা পুলিশের বিপুল বাহিনী মোতায়েন ছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য