
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (হি.স.): নিট-এর পুনঃপরীক্ষাকে সামনে রেখে টেলিগ্রাম অ্যাপের ওপর কেন্দ্রের জারি করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আইনি কোনও ত্রুটি নেই।
আদালত জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার বিধান মেনেই কেন্দ্র টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। টেলিগ্রামের তরফে দাবি করা হয়েছিল, নিষেধাজ্ঞার পর্যাপ্ত কারণ জানানো হয়নি। সেই যুক্তিও আদালত গ্রহণ করেনি। গত ১৮ জুন শুনানি শেষে রায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, টেলিগ্রাম কার্যত ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’-এ পরিণত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করাও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে।
কেন্দ্রের হলফনামায় দাবি করা হয়, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টেলিগ্রামের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছিল। সেই কারণেই পরীক্ষা বাতিল করতে হয়। পুনঃপরীক্ষা যাতে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত বার্তা সম্পাদনার (এডিট) সুবিধাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামণি বলেন, জনস্বার্থে এবং পরীক্ষার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, অন্য সামাজিক মাধ্যমগুলির নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা থাকলেও টেলিগ্রামের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা কার্যকর নয়।
অন্যদিকে টেলিগ্রামের দাবি ছিল, তথ্যপ্রযুক্তি বিধির ৯ নম্বর নিয়মে শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে এই ধরনের পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চ্যানেল ব্লকের সুপারিশই করেননি, অথচ কেন্দ্র ৬৯এ ধারা প্রয়োগ করেছে। সংস্থার আরও বক্তব্য ছিল, ভারতে তাদের প্রায় ১৫ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টেলিগ্রামের ভূমিকার অভিযোগ সামনে আসার পরই কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক অ্যাপটির ওপর ২২ জুন পর্যন্ত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একইসঙ্গে ৩০ জুন পর্যন্ত বার্তা সম্পাদনার সুবিধা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই নির্দেশকেই দিল্লি হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিল টেলিগ্রাম।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য