পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ ছাড়লেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
দুর্গাপুর, ১৯ জুন (হি.স.) : পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে শুক্রবার ইস্তফা দিলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে চিঠি
পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ ছাড়লেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী


দুর্গাপুর, ১৯ জুন (হি.স.) : পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে শুক্রবার ইস্তফা দিলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে জেলা ও রাজ্যস্তরের কমিটি গঠন করেন। নতুন কমিটিতে মূলত প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদেরই গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সেই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসছে।নতুন কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রদীপ সরকার। এরপর পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতির পদ ছাড়েন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নাম।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক ছিলেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী দীর্ঘদিন বিতরণ না করে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের গুদামে মজুত রাখা হয়েছিল। অভিযোগের জেরে একসময় উত্তেজিত জনতা তাঁর বাড়ি ও কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। সেই সময় কার্যালয়ের ভিতরে দুটি সুসজ্জিত কক্ষ এবং একটি ঘরের ড্রয়ারে কন্ডোমের একাধিক প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও দানা বাঁধে। যদিও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।এদিকে, রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তাঁকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সেই দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande