
বাঁকুড়া, ১৯ জুন (হি.স.): বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের ঘুটগড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গণেশ মণ্ডলের বাড়িতে শুক্রবার বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এবং বিজেপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ কয়েকশো মানুষ মিছিল করে গণেশ মণ্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছান। 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। অভিযোগ, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভেঙে একাংশ ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং ইট-পাটকেল ছুড়ে জানলার কাচ, ফুলের টব ও বাগানের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে। ঘটনার সময় গণেশ মণ্ডল বাড়িতে না থাকলেও তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা ও শাশুড়ি বাড়িতে ছিলেন।
গণেশ মণ্ডল বড়জোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অলোক মুখার্জির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তিনি ঘুটগড়িয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারী প্রভাত বাউরি দাবি করেন, কয়েক বছর আগেও গণেশ মণ্ডল রঙমিস্ত্রির কাজ করতেন। অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, কারখানার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বদলে মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে শ্রমিকদের ক্ষতি করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের কোনও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি নেতা সোমনাথ কর এবং বড়জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা গোবিন্দ ঘোষ। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীরা গণেশ মণ্ডলের গ্রেফতারের দাবি জানালে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়।
অন্যদিকে গণেশ মণ্ডলের বাবা মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ছেলে মানুষের জন্য কাজ করেন এবং পুত্রবধূ একজন স্কুলশিক্ষিকা। কৃষিকাজের আয় ও ব্যাঙ্ক ঋণের অর্থে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বড়জোড়া থানার পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট