
চেন্নাই, ১৯ জুন (হি.স.): কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প ঘিরে কাবেরীর জলবণ্টন বিতর্কে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল তামিলনাড়ু। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিশেষ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মেকেদাতু বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনও ধরনের প্রযুক্তিগত, প্রশাসনিক কিংবা পরিবেশগত অনুমোদন না দেওয়ার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় জল কমিশনকে (সিডব্লিউসি) কর্ণাটক সরকারের জমা দেওয়া বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) বিবেচনা না করা, তার ওপর কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া এবং কোনও ধরনের অনুমোদন না দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তামিলগা ভেটরি কাঝাগম (টিভিকে)-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা স্থগিত রেখে সরকার মেকেদাতু ইস্যুতে এই বিশেষ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
এদিনের অধিবেশনের শুরুতেই প্রাক্তন বিধায়ক সি. রামাসামি, ডি. বীরাসামি, সি. স্বামীনাথন, এইচ.জি. আরুমুগম, পি. কান্নান এবং এ. নাঞ্জিল মুরুগেশনের প্রয়াণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এরপর রাজস্বমন্ত্রী তথা সদনের নেতা কে. এ. সেনগোট্টাইয়ান বিশেষ প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য পেশ করার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেন।
প্রস্তাব পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্ণাটক সরকার কাবেরী নদীর উপর মেকেদাতু এলাকায় একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাবেরী জলবিবাদ ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় এবং ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মূল চেতনার পরিপন্থী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সম্মতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও গ্রহণযোগ্য নয়।
মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের বক্তব্য, কাবেরী জলবিবাদ ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট কাবেরী অববাহিকাকে জল-সংকটপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে নদীর জল বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করেছে। সেই পরিস্থিতিতে একই অববাহিকায় নতুন কোনও প্রকল্প বা অতিরিক্ত জল সংরক্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। তাই মেকেদাতু প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হলে তা বিদ্যমান বিচারিক ও আইনগত কাঠামোর বিরোধী হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কাবেরী জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধ তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটক—উভয় রাজ্যের কাছেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব, সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়া মেকেদাতু কিংবা কাবেরী অববাহিকার অন্য কোনও অংশে নতুন বাঁধ বা জলাধার নির্মাণের অনুমতি না দেওয়া।
বিশেষ প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের কাছেও পৃথকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে কর্ণাটক সরকারের জমা দেওয়া ডিপিআর কোনওভাবেই বিবেচনা না করা হয়, তার ওপর কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু না হয় এবং কোনও ধরনের অনুমোদনও না দেওয়া হয়।
বিধানসভা সর্বসম্মতিক্রমে আরও জানায়, মেকেদাতু প্রকল্পের বিরোধিতা এবং কাবেরীর জলের উপর নির্ভরশীল তামিলনাড়ুর কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকার যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর বিশেষ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
প্রস্তাবের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবারও আবেদন জানানো হয়েছে, কাবেরী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের বিদ্যমান রায় এবং আইনগত বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করা হোক এবং কর্ণাটক সরকারের মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্পকে কোনও স্তরেই অনুমোদন না দেওয়া হোক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য