
হুগলি , ১৯ জুন (হি.স.): সামান্য বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে রাস্তা। দীর্ঘদিনের জলনিকাশি সমস্যায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন আরামবাগ পৌরসভার ১৩ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দারা। শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির পর ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ে এলাকার একাধিক রাস্তা। বৃষ্টির জল ও নর্দমার নোংরা জল মিশে রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয় দুর্ভোগের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোথাও হাঁটু, কোথাও তারও বেশি জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া, প্রবীণ, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের যাতায়াতে চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেককেই জল ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিভিন্ন জায়গায় নর্দমার জল উপচে রাস্তায় চলে আসায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় ড্রেন, তা বোঝা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। ফলে প্রায়ই সাইকেল ও মোটরবাইক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যদিও এখনও বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর মেলেনি, তবু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা এলেই এই দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি বছরের অন্য সময়েও একটু বেশি বৃষ্টি হলেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে নর্দমা পরিষ্কার না হওয়া, অপর্যাপ্ত জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং পরিকল্পনার অভাবকেই সমস্যার মূল কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা। বহুবার পৌরসভা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে দাবি বাসিন্দাদের।
জল জমে থাকার ফলে যাতায়াতের সমস্যার পাশাপাশি মশার উপদ্রব, দুর্গন্ধ এবং জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দাদের আশা, নতুন প্রশাসন এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেবে। ড্রেন সংস্কার, উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং রাস্তার পরিকাঠামো মজবুত করা হলে প্রতিবছরের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA