
মুম্বই, ২০ জুন (হি.স.) : মহারাষ্ট্রের বহুচর্চিত পবনরাজে নিম্বালকর হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল মুম্বইয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। প্রমাণের অভাবের কথা উল্লেখ করে প্রাক্তন মন্ত্রী পদ্মসিং পাটিল-সহ মামলার সবক'টি অভিযুক্তকে শনিবার বেকসুর খালাসের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন নিহত পবনরাজে নিম্বালকরের ছেলে তথা ধারাশিবের সাংসদ ওমরাজে নিম্বালকর।
বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক সত্যনারায়ণ নাওয়ান্দার এদিন রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মামলার অন্যতম রাজসাক্ষী পারসমল জৈনের সাক্ষ্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যার কাছে সাড়ে চার কিলোগ্রাম সোনা এবং একাধিক দোকান রয়েছে, তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাজসাক্ষী হতে পারেন—এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এছাড়াও তাঁর সাক্ষ্যে একাধিক অসঙ্গতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।
আদালত আরও জানায়, সাক্ষীর বক্তব্যে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার ছাপ বেশি। অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্ত চলাকালীন তাঁর ওষুধও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর সাক্ষ্যকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। এই কারণেই রাজসাক্ষীর বয়ান গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে আদালত পদ্মসিং পাটিল-সহ সব অভিযুক্তকে খালাস দেয়।
রায় ঘোষণার পর সাংসদ ওমরাজে নিম্বালকর বলেন, এটাই কলিযুগ, এর বেশি কিছু বলার নেই। তিনি জানান, প্রথমে মুম্বই পুলিশ, পরে সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত করলেও তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না বলে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশেই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। শনিবারের রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন জানাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ৩ জুন নবি মুম্বইয়ের কলম্বোলি এলাকায় গুলি করে খুন করা হয় পবনরাজে নিম্বালকর এবং তাঁর গাড়িচালক সমদ কাজিকে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় তৎকালীন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদ্মসিং পাটিল-সহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। ২০০৯ সালে পদ্মসিং পাটিল গ্রেফতার হলেও পরে জামিন পান। মামলার বাকি অভিযুক্তরাও এতদিন জামিনে মুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার বিশেষ সিবিআই আদালত সকল অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য