ক্ষীর ভবানী মেলাকে ঘিরে ভক্তদের ঢল, জম্মু থেকে কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা ৯ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী
জম্মু, ২০ জুন (হি.স.) : কাশ্মীরের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র ক্ষীর ভবানী মেলাকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোর থেকেই জম্মুতে ছিল উৎসবের আবহ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জম্মু থেকে কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দিলেন ৯ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী। তাঁদের অধিকাংশই কাশ্মীরি পণ
ক্ষীর ভবানী মেলাকে ঘিরে ভক্তদের ঢল, জম্মু থেকে কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা ৯ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী


জম্মু, ২০ জুন (হি.স.) : কাশ্মীরের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র ক্ষীর ভবানী মেলাকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোর থেকেই জম্মুতে ছিল উৎসবের আবহ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জম্মু থেকে কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দিলেন ৯ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রী। তাঁদের অধিকাংশই কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের। এবারের যাত্রায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষীরভবানী মেলায় রেকর্ড ভিড়ের আশা করছে প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর সড়ক পরিবহণ নিগমের (জেকেএসআরটিসি) প্রায় ২০০টি বাসে করে তীর্থযাত্রীরা উপত্যকার উদ্দেশে রওনা দেন। নাগরোটা কেন্দ্রের বিধায়ক দেবযানী রানা, ত্রাণ কমিশনার (মাইগ্র্যান্টস) অরবিন্দ কারওয়ানি এবং জম্মু-কাঠুয়া-সাম্বা রেঞ্জের ডিআইজি শ্রীধর পাটিল যৌথভাবে সবুজ পতাকা দেখিয়ে যাত্রার সূচনা করেন।

আগামী ২২ জুন ক্ষীরভবানী মেলা অনুষ্ঠিত হবে গন্দরবল জেলার তুলমূল্লা, কুলগাম জেলার মঞ্জগাম ও দেবসর, অনন্তনাগ জেলার লগরিপোরা এবং কুপওয়ারা জেলার টিক্কর-সহ রাগন্যা ভগবতীর পাঁচটি মন্দিরে। এর মধ্যে বিশাল চিনার গাছঘেরা তুলমূল্লার ক্ষীরভবানী মন্দিরেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে পুজো ও দর্শন সেরে তীর্থযাত্রীরা ২৩ জুন জম্মুতে ফিরে আসবেন।

যাত্রার সূচনা উপলক্ষে দেবযানী রানা বলেন, টানা দ্বিতীয় বছর তীর্থযাত্রীদের যাত্রার সূচনা করতে পেরে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, এবারের বিপুল সাড়া প্রমাণ করে ক্ষীরভবানী মন্দিরের প্রতি ভক্তদের আস্থা ও আধ্যাত্মিক টান কতটা গভীর। তিনি সকলের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সফল তীর্থযাত্রা কামনা করেন এবং দেবী রাগন্যার আশীর্বাদে জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হোক বলে প্রার্থনা জানান।

ডিআইজি শ্রীধর পাটিল ও ত্রাণ কমিশনার অরবিন্দ কারওয়ানি জানান, নির্বিঘ্ন তীর্থযাত্রার জন্য নিরাপত্তা, যাতায়াত, আবাসন এবং চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ভক্ত অংশ নিচ্ছেন, যা এই ধর্মীয় আয়োজনের প্রতি মানুষের বাড়তি আগ্রহেরই প্রতিফলন।

তীর্থযাত্রী রবীন্দর সাধু বলেন, “ক্ষীরভবানী যাত্রা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে আবেগের বন্ধন। আমরা জম্মু-কাশ্মীরের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য প্রার্থনা করতে চলেছি।”

আরও এক তীর্থযাত্রী জানান, দেবীর আশীর্বাদ লাভের পাশাপাশি দেশের উন্নতি, জম্মু ও কাশ্মীরের শান্তি এবং উপত্যকা থেকে বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনাও করবেন তিনি। অপর এক ভক্তের কথায়, এবারের বিপুল অংশগ্রহণই প্রমাণ করে এই তীর্থক্ষেত্রের প্রতি কাশ্মীরি পণ্ডিত সমাজের ভক্তি ও আবেগ আজও অটুট।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande