রাজ্যকে আরও সুন্দর ও আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে নতুন বিল আনা হচ্ছে : অগ্নিমিত্রা পাল
পশ্চিম বর্ধমান, ২৮ জুন (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে একাধিক নতুন বিল আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। রবিবার আসানসোলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রস্তাব
রাজ্যকে আরও সুন্দর ও আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে নতুন বিল আনা হচ্ছে : অগ্নিমিত্রা পাল


পশ্চিম বর্ধমান, ২৮ জুন (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে একাধিক নতুন বিল আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। রবিবার আসানসোলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রস্তাবিত আইনগুলি নিয়ে বিস্তারিত জানান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

মন্ত্রী বলেন, জনসমাবেশ বা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দদূষণ যাতে না হয়, সে জন্য সরকার নতুন নিয়মের কথা ভাবছে। ৫০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ নিয়ন্ত্রণে বিল আনা হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও ধর্ম, সম্প্রদায় বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না; সকলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অতীতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের কারণে রাস্তা অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই রাজ্যে শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, কোনও সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি নেওয়া হবে না, তবে রাজ্যের উন্নতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে চলেছে, যাকে তিনি 'গুন্ডা দমন বিল' বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। সরকারি সম্পত্তি সাধারণ মানুষের করের টাকায় তৈরি হয়, তাই তা নষ্ট করার অধিকার কারওর নেই।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রেলস্টেশনে আগুন লাগানো, ট্রেনে পাথর ছোড়া বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা কখনওই গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না। প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও, জনসম্পত্তি নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।

বিভিন্ন গ্রেফতারি ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, যেখানে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে, সেখানে তদন্ত হওয়াই উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।

জমি দখল, সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির অভিযোগে পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও জমি সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ক্ষতিপূরণ এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রোধে প্রস্তাবিত আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের সংবেদনশীল এলাকায় বসবাসের অনুমতি না দেওয়ার মতো বিধান নিয়েও ভাবা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় স্তরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে নিয়ম মেনে আবেদন করা হলে আইন অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধীদের অবস্থান সম্পর্কে জনগণই সঠিক মূল্যায়ন করবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সামনে এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করাই বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande