
ইটানগর, ২৯ জুন (হি.স.) : অবিরাম বৃষ্টিতে অরুণাচল প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আজ সোমবার প্রবল বর্ষণে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, নতুন করে একাধিক ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, অন্তত ১২টি জেলায় সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।
লোয়ার দিবাং ভ্যালি :
ভারতীয় বায়ুসেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, স্থানীয় রাফটিং দল ‘জাকতুম নটকো’ এবং স্থানীয় হাতির মালিকগণ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে লোয়ার দিবাং ভ্যালির সিসিরি নদীর একটি চরে আটকে পড়া চারজনকে উদ্ধার করেছেন। একই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টির দরুন রোয়িং-আনিনি সড়কের একাধিক অংশে আকস্মিক বন্যায় রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আনজাও জেলা :
আনজাও জেলার সার্তি গ্রামের কাছে ওয়ালং সড়কে জাতীয় সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত একটি এক্সকেভেটরের ওপর বিশাল পাথর ধসে পড়ায় চালকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার রাতের খারাপ আবহাওয়া ও আরও পাথর গড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হলেও আজ সোমবার সকালে ওয়ালং আউটপোস্ট এবং হাওয়াই থানার পুলিশ উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু করে। ধ্বংসাবশেষ সরানো না হওয়া পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চালকের অবস্থার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পূৰ্ব সিয়াং জেলা :
টানা বৃষ্টির দরুন পূর্ব সিয়াং জেলায় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং রাস্তা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি প্রধান সড়কের মধ্যে মাত্র দুটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। পাসিঘাট-পাঙ্গিন, পাসিঘাট-মারিয়াং-ইংকিয়ং, পাসিঘাট-মেবো-ডামবুক-বমজির, বিলাট-লেডুম এবং পাসিঘাট-ইয়াগরুং-লেডুম-তেনে সড়ক এখনও বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পাসিঘাট-রুনে-তাকিলালুং সড়কের লেটং সেতুর বাম দিকের সংযোগপথ ভেসে গেছে। এছাড়া বালেক সেকেন্ডারি স্কুল, রানাঘাট সেতু এবং পগলেক নদী পারাপারের রাস্তা এখনও অচল।
লেডুম এলাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় অন্তত ১০টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। একটি বাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ জলের নীচে অবস্থান করছে, দুটি গবাদিপশু ভেসে গেছে এবং একটি কমিউনিটি শৌচাগার, একটি চালকল ও তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১২টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং একটি কমিউনিটি 'দেরে'কে অস্থায়ী ত্রাণশিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কোনও প্রাণহানির খবর নেই, একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
লোয়ার সিয়াং জেলা :
সিজি এলাকায় বিশাল ভূমিধসের ফলে লিকাবালি চেকপোস্টের কাছে সিজি নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উজানে জল জমে নিম্নাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি করেছে। ভূমিধসের সময় মোটরবাইক সহ আরোহী ঢাল বেয়ে নীচে পড়ে গেলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
পুলিশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরে আজ (সোমবার) সকালে প্রশাসন জানিয়েছে, জমে থাকা জল নেমে যাওয়ায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এসেছে।
কেয়ি পানিয়র জেলা :
কেয়ি পানিয়র জেলায় নিখোঁজ দুই ব্যক্তির খোঁজে আজ (সোমবার) টানা ষষ্ঠ দিনের মতো তালাশি অভিযান চলেছে। গত বুধবার পুসার নিপকো কলোনিতে আকস্মিক বন্যায় পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিলেন।
রবিবার পার্শ্ববর্তী পাপুমপারে জেলার হাওয়া ক্যাম্পের কাছে সৌরভ কুমার খারওয়ারের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধ ও শনিবার দুই মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা গেছে, নিপকো কলোনিতে প্রায় ৩০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। পাশাপাশি পসা ও পিতাপুল এলাকায় আরও ১০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ১৪টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১২৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বাস্তুচ্যুত ৬০ জন বাসিন্দা নিপকো ক্যাম্পাসের ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
১২ জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি :
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলমান দুর্যোগে কেয়ি পানিয়র, পাপুমপারে, ক্রা দাদি, কুরুং কুমেই, লোয়ার সুবনশিরি, কামলে, আপার সুবনশিরি, পূর্ব সিয়াং, লেপারাডা, লোয়ার সিয়াং, লোয়ার দিবাং ভ্যালি এবং আনজাও জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) পূর্বাভাস দিয়েছে, পূর্ব সিয়াং এবং পার্শ্ববর্তী লেপারাডা, লোয়ার সিয়াং, লোয়ার সুবনশিরি এবং পাপুমপারে জেলায় আগামী দিনগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যাতায়াত না করতে এবং আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস